বিনাদোষে জেল খাটলেন ইমাম, ডিএনএ পরীক্ষায় মেলেনি প্রমাণ

ফেনী সংবাদদাতা

সারাদেশ

ফেনীর পরশুরামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন অভিযুক্ত ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের

2026-05-07T22:00:01+00:00
2026-05-07T22:00:01+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বিনাদোষে জেল খাটলেন ইমাম, ডিএনএ পরীক্ষায় মেলেনি প্রমাণ
ফেনী সংবাদদাতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১০:০০ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ফেনীর পরশুরামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন অভিযুক্ত ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি- বরং ধরা পড়েছে আসল অভিযুক্ত।

খোদ কিশোরীর বড়ভাই মোরশেদের ডিএনএর সঙ্গে তার সন্তানের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। কিন্তু নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি এই দোষ চাপান মোজাফফরের ওপর, যার জেরে এই ইমামকে এক মাস দুই দিন খাটতে হয় জেল। শিকার হতে হয় সামাজিক ও পারিবারিক মানহানির। চাকরি হারিয়ে তাকে হতে হয় প্রায় নিঃস্ব।

ফরেনসিক পরীক্ষাসহ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল মামলা থেকে মোজাফফরকে অব্যাহতি দিয়ে এবং মোরশেদকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে পুলিশ। অব্যাহতি-সংক্রান্ত নথি হাতে আসার পর তা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন মোজাফফর।

মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ চাই।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের কিশোরী (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করে সে। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে তার পরিবার। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে কাকুতি-মিনতি করলেও কারও মন গলেনি।

এই পরিস্থিতিতে মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে যান মোজাফফর। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও কিশোরীর মা মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর এক মাস দুইদিন কারাভোগ করেন মোজাফফর। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে মোজাফফর নামেন আইনি লড়াইয়ে। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেন ৫ শতক জায়গা। যদিও প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হতে থাকেন। ভেঙে পড়েন মানসিকভাবে।


মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়ে মোজাফফর আহমদ বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। তিনি নিজের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারাভোগের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন।

মোজাফফর আহমদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নি, কওমি বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   জেল  ইমাম  ফরেনসিক  পরীক্ষা  মেলেনি  প্রমাণ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: