নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চার হাজার কর্মীর চাকরি বহাল রাখার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি (ইউপিএইচসিএসডিপি) প্রকল্প স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রকল্পটির

2026-05-07T23:44:07+00:00
2026-05-07T23:44:07+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চার হাজার কর্মীর চাকরি বহাল রাখার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম 
ইউপিএইচসিএসডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ছবি : সময়ের আলো
নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি (ইউপিএইচসিএসডিপি) প্রকল্প স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রকল্পটির ৪ হাজার ৩৮২ কর্মকর্তা-কর্মচারী। মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনায় যুক্ত চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক ও টেকনিশিয়ানদের চাকরি বহাল না রেখে শুধু অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি হস্তান্তরের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। দাবি আদায়ে আগামী ১০ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ধারাবাহিক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। 

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানোর পাশাপাশি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ইউপিএইচসিএসডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা) আইন ২০০৯ অনুযায়ী নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার, এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে এ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গত ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত চলমান ছিল। প্রকল্পের আওতায় ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৮টি পৌরসভা এলাকায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন এবং ১৪৭টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মোট ১৯২টি কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে এই কেন্দ্রগুলো সরাসরি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা পরিচালনা করছে। বর্তমানে ১৮টি বেসরকারি সংস্থা এবং ৩টি পৌরসভা ও ১টি সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পটি মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৪৫টি পার্টনারশিপ এলাকায় ১৬ ধরনের বহুমুখী সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রসব-পূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য, ইপিআই সেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণসহ নির্যাতিত নারীদের সেবা অন্যতম। 

নীতিমালা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলোতে দরিদ্রদের জন্য অন্তত ৩০ শতাংশ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা সুলভ মূল্যে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার প্রসব-পূর্ব সেবা এবং ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করার মতো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বর্তমানে এই সেবা কার্যক্রমটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিবর্তনকালীন অবস্থায় প্রকল্পে কর্মরত ৪ হাজার ৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে, জনস্বার্থ বিবেচনা করে, এই বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাকরি বহাল রাখা এবং নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. সাদিয়া আফরোজ বলেন, ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প এখন একটি পরিণত ও দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে। দক্ষ জনবল দিয়ে পরিচালিত এ প্রকল্প এখন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন এই দক্ষ জনবল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রক্ষা করা হয়।

সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. তানভীর হোসেন বলেন, সরকার ভবন ও যন্ত্রপাতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করেছে। কিন্তু ৪ হাজার ৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। অথচ সরকারই আমাদের প্রশিক্ষিত করেছে। গত ১৮ বছরে আমি নিজে সাতটি বিদেশি ও ৬২টি স্থানীয় প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমরা মনে করি, এই দক্ষ জনবলকে অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারই লাভবান হবে।

প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট মো. ইউনুস আলী মৃধা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে জনবল কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সিটি করপোরেশনগুলোর অর্গানোগ্রামে এ ধরনের বিপুল জনবল রাখার সুযোগই নেই। স্বাস্থ্য বিভাগে সীমিত কয়েকটি পদ রয়েছে। তাই বাস্তবতা বিবেচনা না করে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি : আগামী শনিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কিংবা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছ থেকে আশানুরূপ কোনো সাড়া না পেলে আগামী ১০ মে, রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মৎস্য ভবন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পর্যন্ত চার হাজার ৩৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। 

১১ মে একই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ১২ মে ৪৫টি পার্টনারশিপ এলাকার স্পেশালিস্ট ফিজিশিয়ান, ফিজিশিয়ান, প্যারামেডিক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, এফডব্লিউভি ও এফডব্লিউএরা একই স্থানে একই কর্মসূচি পালন করবেন।

এরপরও দাবি আদায়ে কোনো অগ্রগতি না হলে ১৩ মে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের সেবা গ্রহণকারী দরিদ্র সাধারণ জনগণ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ১৪ মের মধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে পুনরায় ৪ হাজার ৩৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। একই সঙ্গে ওইদিন বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচিও জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান প্রকল্পটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


  বিষয়:   ইউপিএইচসিএসডিপি  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি  নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: