বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ‘মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি মডেল’কে সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, মসজিদ কেবল উপাসনালয় নয়, বরং এটি নৈতিকতা, সামাজিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহমর্মিতার প্রাণকেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি মসজিদকে একটি ‘কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের সমাজে যাকাত, সদকা ও ফিতরার বিশাল প্রবাহ থাকলেও তা অসংগঠিত। ফলে দারিদ্র্য সাময়িকভাবে কমলেও টেকসই পরিবর্তন আসে না। যদি মসজিদভিত্তিক ‘কর্জে হাসানাহ’ (সুদবিহীন ঋণ) ব্যবস্থা চালু করা যায়, তবে একজন রিকশাচালক বা বেকার যুবক সুদের বোঝা ছাড়াই স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। তখন দান কেবল সহানুভূতি থাকবে না, তা উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপ নেবে।
প্রতিটি মসজিদ নিজ এলাকার মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা ও জরুরি মানবিক তহবিল গঠন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, মসজিদে নিয়মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্প, রক্তদাতা নেটওয়ার্ক ও ওষুধ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে। এলাকাভিত্তিক দরিদ্র ও প্রবীণ মানুষের ডাটাবেজ তৈরি করা গেলে রাষ্ট্রীয় ওপর চাপ কমবে এবং সহায়তা হবে আরও মর্যাদাপূর্ণ।
ইসলামের ইতিহাসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মদিনার সমাজব্যবস্থায় মসজিদ ছিল জ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজ পরিচালনার কেন্দ্র। বর্তমানে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ায় এই মডেল কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি মহল্লায় থাকা মসজিদের বিশাল অবকাঠামোকে ব্যবহার করে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
এনসিপি সমন্বয়ক তার পোস্টে উল্লেখ করেন, মসজিদের মিনার থেকে শুধু আজানের ধ্বনি নয়, বরং শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের আহ্বানও ছড়িয়ে পড়তে হবে। একটি সক্রিয় মসজিদ মানেই একটি সচেতন সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্রের ভিত্তি।
/কহু