
প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কি উন্নয়ন হবে না—সরকারের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ন্যাবিচারের পরিবর্তে অবিচার করছে এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য তৈরি করছে।
গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন সম্প্রতি বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করা এবং নতুন পাঁচটি উপজেলা গঠনের মতো সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে মূলত ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সন্তুষ্ট করতে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে জামায়াত উন্নয়নের বিরোধী নয়, তবে উন্নয়ন কেন কেবল প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় রয়েছে। তার মতে, যেসব এলাকায় এমন প্রভাবশালী নেতা নেই, সেই এলাকাগুলো কি তবে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত থাকবে? তিনি এই ধরনের পক্ষপাতমূলক উন্নয়ন নীতিকে একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এলেও পুনরায় বৈষম্যের সমাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে আবারও সেই পুরনো ধারা বজায় রাখা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকাণ্ড সংকুচিত করে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিফলন হতে পারে না।
দেশের রেল যোগাযোগের বেহাল দশার জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সারা বিশ্বে রেল যোগাযোগ যখন সাফল্যের শিখরে পৌঁছাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে কেবল দুর্নীতির কারণে এই খাতটি পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে নিজের সিদ্ধান্তে চলবে এবং কোনো বিদেশি শক্তির ‘প্রেসক্রিপশন’ বা রিমোট কন্ট্রোল আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না। দেশকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে হলে সব ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সময়ের আলো/টিএইচ