ভারতের ওড়িশা রাজ্যের রাউরকেলায় চুরি করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ার ভয়ে দুই চোরের খোদ পুলিশকে ফোন করে সাহায্য চাওয়ার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ এপ্রিল রাউরকেলার একটি দোতলা বাড়িতে এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাধারণত চোরেরা পুলিশের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করলেও, এক্ষেত্রে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনি থেকে প্রাণ বাঁচাতে তারা পুলিশের কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে। দুই চোরকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় পুলিশও এমন বিচিত্র অভিজ্ঞতায় অবাক হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ওইদিন একটি তালাবদ্ধ দোতলা বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে দুই যুবক। বাড়ির মালিকরা সে সময় উপস্থিত না থাকায় তারা নির্বিঘ্নে আলমারি ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। তবে ঘরে আসবাবপত্র নাড়াচাড়ার শব্দে পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশীর মনে সন্দেহ জাগে।
তিনি তৎক্ষণাৎ অন্য প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান এবং মুহূর্তের মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। ভেতর থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দুই চোর চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
দরজার বাইরে উত্তেজিত জনতার হাকডাক শুনে চোরেরা বুঝতে পারে, পালানোর কোনো পথ নেই এবং বাইরে বের হওয়া মানেই নিশ্চিত গণপিটুনি। এই প্রাণভয়ে তারা পকেটে থাকা ফোন দিয়ে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করে এবং তাদের দ্রুত উদ্ধার করার জন্য কাতর আবেদন জানায়। পুলিশকে তারা অনুরোধ করে যেন উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদের বাঁচিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ফোন পাওয়ার পরপরই রাউরকেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, কয়েক শ লোক বাড়িটি ঘিরে রেখেছে এবং চোরদের বের করে আনার দাবি জানাচ্ছে। পুলিশ দীর্ঘ প্রচেষ্টায় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং বাড়ির ভেতরে ঢুকে চোর দু’জনকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হয়।
তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে চুরি করা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাড়ির মালিকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই চোরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
সময়ের আলো/টিএইচ