ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট, দীর্ঘ ক্লাসের সময় এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনে শুক্রবার পর্যন্ত ৫৬৪টি স্কুলে বিক্ষোভ বা পাঠদান ব্যাহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিক্ষোভের কিছু ঘটনায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি স্কুল বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্যারিস, মার্সেইসহ প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রবেশপথও অবরুদ্ধ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের শুরু থেকে ৫৬৪টি স্কুলে বিক্ষোভ, অবরোধ বা অচলাবস্থার ঘটনা ঘটে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছিলেন, দেশের প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে শুক্রবার ৪০০টির বেশি স্কুল বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
গত মাসে প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের হিসাবে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি সমাবেশ, অবরোধ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৬০টির বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।
বিক্ষোভের সময় কয়েকটি সহিংস ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার অন্তত দুটি উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মার্সেইয়ের একটি স্কুলে শিক্ষকদের ওপর অনিচ্ছাকৃতভাবে পেট্রল ছিটকে পড়ে। স্ত্রাসবুর্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তুলুজে বিক্ষোভকারী তরুণদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্দ দারমানাঁ বলেন, আন্দোলনে একটি ‘সক্রিয় ও সহিংস সংখ্যালঘু’ অংশ নিচ্ছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংকটকালীন মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভের পেছনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে কট্টর বামপন্থীদের একটি অংশ, যার মধ্যে লা ফ্রঁস ইনসুমিজের (এলএফআই) সদস্যরাও রয়েছেন, আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এলএফআইয়ের আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ৩ হাজার লিসে শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। শুধু বৃহস্পতিবারই আটক করা হয় ১ হাজার ৯৪৯ জনকে। এ ছাড়া বিক্ষোভে ৩০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য এবং কয়েক ডজন দমকলকর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ