বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শাপলা চত্বরে নৃশংসভাবে সব বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে প্রায় ২ লাখ গোলাবারুদ ও আর্মস-অ্যামুনিশন ব্যবহার করা হয়েছিল।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘শাপলার স্মৃতি শহীদগাঁথা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কেউ মারা যায়নি, হুজুররা লাল রং মেখে শুয়ে ছিল। দেশের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন এটি প্রশ্নবিদ্ধ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বর্তমানে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলছে এবং ধীরে ধীরে তদন্তে ৭২ জনের বেশি হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। দীর্ঘদিনের ইসলামি জনতার ওপর কথিত কর্তৃত্ববাদী সরকারের নির্যাতনের বিস্ফোরণ হিসেবে সেদিন সর্বস্তরের মানুষ দাঁড়িয়েছিল।
জামায়াত নেতা আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আলাদা কোনো ঘটনা নয়, বরং একই ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি বলেন, একটি আরেকটির পরিপূরক হয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের সংগ্রাম এগিয়ে গেছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, যে কারণে মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই আদর্শ ও স্বপ্ন পূরণের জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে যেন কেউ পিছিয়ে না যায়। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সংগ্রাম এগিয়ে নিতে হবে এবং নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
আরবিএন