প্রধানমন্ত্রীর কাঠগড়ায় মন্ত্রীরা

সাব্বির আহমেদ

রাজনীতি

বিএনপির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীদের জবাবদিহিতায় আনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জেলার নেতারা সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, জবাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট

2026-05-10T02:51:10+00:00
2026-05-10T02:51:10+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
বিএনপির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
প্রধানমন্ত্রীর কাঠগড়ায় মন্ত্রীরা
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ২:৫১ এএম 
বিএনপির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীদের জবাবদিহিতায় আনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জেলার নেতারা সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, জবাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। কয়েকজন নেতার প্রশ্ন ছিল- এখনও কেন সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা বসে আছেন? জবাবে মন্ত্রীরা বলেছেন, দ্রুতই তাদের সরানো হবে। 

সরকার গঠনের পর তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবহেলিত আছেন। তাদের বড় পদের নেতারা মূল্যায়ন করছেন না- প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এমন অভিযোগ তুলেন বেশিরভাগ নেতাকর্মী। জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের বৈতরণি পার হতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা ভারী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দলীয়প্রধান। 

শনিবার দিনভর এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নেন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মতবিনিময় সভার সূচনা বক্তব্যে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা চান দলীয়প্রধান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য রাখেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটাই প্রথম মতবিনিময় সভা।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় নেতাদের চেয়ে ঢাকার বাইরের নেতাদের বেশি অগ্রাধিকার দেন। তারাই বিভিন্ন প্রশ্ন করেন মন্ত্রীদের। সভার এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে প্রশ্ন রাখেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর। 

তিনি জানতে চান, তার ক্যাম্পাসে এখনও কেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর মতাদর্শের দুজন উপ-উপাচার্য দাযিত্ব পালন করছেন? প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে তাদের কবে নাগাদ সরানো হবে? জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুতই। মাত্র তো দুই মাস হলো আমাদের দায়িত্ব পাওয়ার। এ সময় মন্ত্রীকে থামিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিলন সাহেব, আপনি কিন্তু দুটি শপথ নিয়েছেন। একটি সংসদ সদস্যের, আরেকটি মন্ত্রী হিসেবে।

সুতরাং আপনাকে উত্তর দিতে হবে আরও ভেবেচিন্তে, বাস্তবসম্মতভাবে। পরে ছাত্রদলের নেতা বাবর সময়ের আলোকে বলেন, হ্যাঁ এখনও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও জামায়াতের মতাদর্শের শিক্ষক দিয়ে। আমরা চাই জাতীয়তাবাদী আদর্শের কাউকে প্রশাসনিক বড় পদে দায়িত্ব দেওয়া হোক।

তিনি জানান, মূলত মতনিবিময় সভাটি বিএনপি পরিবারে সংসদ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে মন্ত্রীদের আমরা প্রশ্ন করেছি। সংসদের মতো স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তৃণমূলকে নিয়ে এমন আয়োজন প্রধানমন্ত্রী বছরে ৩-৪ বার করতে চান।

মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন এমপিকে নেতারা প্রশ্ন করেন, কেন হামে এত শিশু মারা যাচ্ছে? জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নানা পদক্ষেপের কথা। মন্ত্রীকে থামিয়ে এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব পদক্ষেপে আমার নাম নিলেন। তা হলে মন্ত্রী হিসেবে আপনি ও আপনার মন্ত্রণালয় কি করেছে? এ সময় দর্শক সারিতে থাকা অনেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে জানতে চাওয়া হয় কাপ্তাই থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর বিকল্প ব্যবস্থা আছে কি? মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও জাবাব দেন। কুমিল্লা মহাসড়কে মৃত্যুর আধিক্যের কারণ জানাতে চাওয়া হয় সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে। জবাবে মন্ত্রী কুমিল্লা-চান্দিনা মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীত করার কথা জানান। 

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীরা জানান, তারা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রোজ ২০ ঘণ্টা কাজ করছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেসে ওঠেন।

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন তাদের জেলা বিএনপি নেতারা মূল্যায়ণ করেন না। এ সময় হর্ষধ্বনি দিয়ে সবাইকে এই কথাকে স্বাগত জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক চর্চা বাড়াতে হবে। পরেরবার সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা হবে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সংগঠনের কাউন্সিল ও সংগঠন শক্তিশালী করার ওপর জোর দেবেন।

যুবদল ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল সময়ের আলোকে বলেন, মতবিনিময় সভাটি ছিল খুবই ব্যতিক্রমধর্মী। মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। নিজ যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে। কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব দল ও সরকার নেবে না। 

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার মা-বাবার জানাজায় বিপুল উপস্থিতি ও তাদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন। এই নির্বাচনে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করতে হবে। কারও কর্মকাণ্ডে যাতে দল ও সরকার বিব্রত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সবশেষ তিনি বিএনপির কাউন্সিল চলতি বছরের শেষ দিকে হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন।

 বিএপনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে রাত ৮টার দিকে রুদ্ধদ্বার এই মতবিনিমিয় সভা শেষ হয়।

সময়ের আলো/আআ


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: