মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে যখন পাকিস্তানের শেষ উইকেটটি পড়ে গেল, তখন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মুখে স্বস্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট।
একসময় যে ম্যাচে সফরকারীরা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছিল, সেখানে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখেন স্বাগতিকরা। বাঁকবদলের কেন্দ্রে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
অফ স্পিন, ধৈর্য আর নিখুঁত পরিকল্পনায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ফাটল ধরিয়ে ১৪তম টেস্ট ফাইফার তুলে নেন এই অলরাউন্ডার। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়েও এখন মিরাজের চোখ দলের ব্যাটিংয়ে। তার বিশ্বাস, চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করার মতো লক্ষ্য দাঁড় করাতে হলে ব্যাটারদের খেলতে হবে অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে।
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে দুই ওপেনার বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় শক্ত ভিত পায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, মুমিনুল হকের শতক ছুঁই ছুঁই ইনিংস এবং মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞ ব্যাটিংয়ে ৪১৩ রান তোলে স্বাগতিকরা।
যদিও লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ ইনিংস বড় করতে পারেননি। গতকাল প্রতিপক্ষের ইনিংস ধসিয়ে দলকে লিড এনে দেওয়ার নায়ক মেহেদী মিরাজ। দিন শেষে তাই সংবাদ কক্ষে আগমন তার। সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, উইকেট যতটা সহজ দেখাচ্ছিল, বোলারদের জন্য কাজটা ততটা সহজ ছিল না।
তবে পরিকল্পনা ঠিক রাখাতেই এসেছে সাফল্য, ‘উইকেটটা অনেক ভালো ছিল। ওরা কিন্তু শুরুর দিকে অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। জুটিও হয়েছে। তবে আমরা ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। আগের দিন ওরা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে এবং আমাদের মানসিকতা ছিল এরকম যে, যেহেতু আমরা ভালো করতে পারিনি ও অনেক রান দিয়ে দিয়েছি, কীভাবে সেই রান আটকাতে পারি। এভাবেই আমাদের মনোযোগ ছিল।’
মিরপুরের উইকেটে তৃতীয় দিনে স্পিনারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা ছিল না। মাঝেমধ্যে কিছু বল নিচু থেকেছে, কিছুটা টার্নও মিলেছে। তবে সেটি ছিল খুব সীমিত। তারপরও কীভাবে সফল হলেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন মিরাজ, ‘ওরকম বেশি স্পিন হচ্ছিল না (উইকেটে)।
আমি চেষ্টা করেছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। বাড়তি কিছু সুবিধাও পেয়েছি। সব বল যে স্পিন করেছে এরকম নয়। কিছু কিছু বল স্পিন করেছে। ওইটা হয়তো ব্যাটসম্যানের মনে সংশয় তৈরি করেছে। এর জন্য হয়তো উইকেট পেতে আরও সহজ হয়ে গেছে।’
দ্বিতীয় দিনের শেষে পাকিস্তান ছিল ১ উইকেটে ১৭৯ রানে। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরার শুরুটা হয় তাসকিন আহমেদের স্পেলে। সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস ও অধিনায়ক শান মাসুদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ভিত কাঁপিয়ে দেন তিনি। এরপরই আক্রমণে আসেন মিরাজ।
সৌদ শাকিলকে শূন্য রানে ফেরানোর পর অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফাজালের লড়াইও থামান এই অফ স্পিনার। যদিও পরে সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি আবারও হতাশায় ফেলেছিল বাংলাদেশকে। তবে সেই জুটিও ভেঙে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। এরপর নোমান আলি ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ।
৫৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তার ১৪তম ইনিংসে পাঁচ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে তার ওপরে আছেন কেবল তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান। তাসকিনের সঙ্গে নিজের বোলিং জুটির প্রশংসাও করেছেন মিরাজ। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে পার্টনারশিপ বোলিংই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
এক পর্যায়ে ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। এরপর সালমান ও রিজওয়ানের জুটি আবার ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেরালেও শেষ পর্যন্ত ৩৭ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট তুলে নিয়ে লিড নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এখন ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং। মিরাজ মনে করছেন, উইকেট এখনও ভালো থাকলেও চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে ব্যাটিং কঠিন হবে। তাই ব্যাটারদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৪ রানের লিড বাংলাদেশের। আরও অন্তত ৩০০ রান চান বলে প্রত্যাশা মিরাজের।
/এসএকে