মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত ‘সার্বভৌমত্ব ধ্বংসকারী বাণিজ্যচুক্তি’ বাতিলের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। সোমবার (১১ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিল আরম্ভ হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের সূচনা বক্তব্যের পর বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কলাভবন–শ্যাডো–এফবিএস–মধুর ক্যান্টিন–সোশ্যাল সায়েন্স–কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রদক্ষিণ করে দোয়েল চত্বর—হাইকোর্ট হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে যায়। হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে মিছিলটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সমবেত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘ওয়াশিংটন না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা; মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক নিপাত যাক; কৃষি ধ্বংসের বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করো করতে হবে; শিল্প ধ্বংসের বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করো করতে হবে; সম্পদ ধ্বংসের বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করো করতে হবেসহ’ চুক্তিবিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের সভাপতিত্বে এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দীন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি কেবল নামেই পারস্পরিক। বাস্তবে পোল্ট্রি, ডেইরি, ওষুধ, কৃষি, শিল্পখাত বিনষ্টকারী এই চুক্তিটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকিস্বরূপ। দেশ যখন জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ নানারকম সংকট, হামের প্রাদুর্ভাব, টিকার সংকট ও স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনায় ভুগছে তখন সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চমূল্যে বোয়িং বিমান ক্রয়ের তৎপরতায় ব্যস্ত। স্বাধীনতার পর থেকে সকল রেজিমেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, ট্রাম্প সরকারের আরোপিত পাল্টা শুল্কের প্রেক্ষিতে সাম্রাজ্যবাদের তোষামোদে লিপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে এই অসম চুক্তি সম্পাদন করলেও ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই অতিরিক্ত শুল্কারোপকে ক্ষমতা বহির্ভূত আদেশ উল্লেখ করে বাতিল করে দেয়। বাস্তবতা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য ট্রাম্প সরকারের চাপিয়ে দেওয়া এই চুক্তিতে বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণই বেশি যা একাধিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কায়েমের হাতিয়ার হয়ে উঠবে। অপরদিকে, মালেশিয়া এবং অন্যান্য দেশ এই পারস্পরিক চুক্তিতে নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বর্তমান বিএনপি জোট সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাম্রাজ্যবাদের দালাল হিসেবেই নতিস্বীকার করেছেন এবং মিথ্যাচারের মাধ্যমে দেশবিক্রির এসব প্রকল্পকে ভালো হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই চুক্তিকে দেশের জন্য ভালো হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে দোষীদের দায়ী না করে চুপ থাকার মধ্য দিয়ে গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে বর্তমান সরকারকে গণবিরোধী কার্যকলাপ থেকে সরে আসার হুঁশিয়ারি জানান নেতৃবৃন্দ। অনতিবিলম্বে এই দাসত্বের চুক্তি বাতিল না করলে চুক্তির বিরুপ প্রভাবে আক্রান্ত পক্ষসমূহ ও সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণার মাধ্যমে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
/কহু