সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ১৭, সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

তরুণ সমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা, তামাকজনিত অকাল মৃত্যু রোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১৭

2026-05-11T23:00:20+00:00
2026-05-11T23:00:20+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ১৭, সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:০০ পিএম 
প্রতীকী ছবি
তরুণ সমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা, তামাকজনিত অকাল মৃত্যু রোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

সোমবার (১১ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন— এই চারটি মূল্যস্তর নির্ধারণ করে সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ আবগারি শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর আরোপ করলে প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য দাঁড়াবে ৩৫ টাকা। উচ্চ স্তরের প্রতি প্যাকেটের দাম ১৫০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম পড়বে ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।

এছাড়া বর্তমানে বাজারে থাকা মধ্যম ও নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে প্রতি প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম হবে ১৭ টাকা ১ পয়সা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ নতুন করে ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। 

দীর্ঘমেয়াদে এর মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকার প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা তামাক কর রাজস্ব হিসেবে আদায় করতে পারবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সিগারেটের দাম সেভাবে বাড়ছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণরা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সুফিয়ান নাহিন শিমুল এনবিআরের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, সিগারেটের বাজারের ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের দখলে থাকায় এই স্তরের দাম বাড়ানো সবচেয়ে জরুরি। 

এছাড়া জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন সতর্ক করে বলেন যে, ফুসফুস ক্যান্সারের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কারণই হলো ধূমপান, যা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি হবে।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: