ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগকারী শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি তার রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে চলমান গুঞ্জনের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সম্প্রতি তার পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, তিনি খুব শীঘ্রই জাতীয় নাগরিক কমিটিতে (এনসিপি) যোগদান করছেন। তবে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোনামি স্পষ্ট করেছেন, এনসিপি সম্পর্কে তার ইতিবাচক ধারণা থাকলেও বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি জানান, আপাতত তিনি নিজের পূর্বের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন এবং রাজনীতিতে জড়াতে চাচ্ছেন না।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে মোনামি তার ভালো লাগার কথা জানিয়ে বলেন, এটি একটি উদীয়মান রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মধ্যপন্থী রাজনীতি বা ‘সেন্ট্রিক পলিটিক্স’ করার জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল।
তার মতে, এনসিপি সেই জায়গাটি তৈরি করতে পারছে এবং ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো করবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি দেখা যায় দলটি তাদের আদর্শ ধরে রাখতে পেরেছে এবং সেখানে তার কাজ করার মতো কোনো সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবেই তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন। তবে সেই সময়টি বর্তমান থেকে অনেক দূরে কিংবা খুব শীঘ্রই নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্টের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি। তার এই আকস্মিক পদত্যাগের পরই মূলত তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে নানা খবর প্রকাশিত হতে থাকে। মোনামি এই সাক্ষাৎকার প্রদানের মাধ্যমে সেই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন।
বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেই মনোনিবেশ করতে চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনীতিতে আসার বিষয়ে তিনি এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই একই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
তার এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট, জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আপাতত নিছক গুঞ্জন ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার মতো তরুণ ও মেধাবী ব্যক্তিত্বদের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা ভবিষ্যতে সবসময়ই উন্মুক্ত থাকবে।
সময়ের আলো/টিএইচ