রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সমস্যা সমাধানে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী মতবিনিময় কর্মসূচি চালু করেছেন। বড় কোনো আনুষ্ঠানিক সভা বা জনসভার পরিবর্তে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বা সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে তাদের অভাব-অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণ করছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দিনব্যাপী রংপুরের পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত ত্রৈমাসিক মতবিনিময় কর্মসূচির প্রথম পর্বে তিনি প্রায় দুই শতাধিক মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। এই সরাসরি সংলাপে উঠে আসা বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতেই তার এই উদ্যোগ।
মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়, যার ফলে নাগরিকরা তাদের মনের কথা বা সমস্যার কথা সহজে বলতে পারেন না। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি নিয়মিত এলাকায় এসে মানুষের মুখোমুখি হচ্ছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, বড় জনসভায় সীমিত সংখ্যক মানুষ কথা বলার সুযোগ পান, কিন্তু এ ধরনের একান্ত আলোচনায় সমাজের শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরা এলাকার সুপ্ত সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মন খুলে বলতে পারেন। এতে নতুন প্রতিনিধি হিসেবে তার দৃষ্টির আড়ালে থাকা বিষয়গুলোও সামনে আসছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হচ্ছে।
এ দিনের মতবিনিময় কর্মসূচিতে এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে। বিশেষ করে কৃষকদের বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ মূল্য না বাড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা তিনি মাঠপর্যায়ে সরাসরি আলাপের মাধ্যমে গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন। তিনি মনে করেন, ঢাকায় বসে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব বুঝতে মাঠের বাস্তবতা জানা অত্যন্ত জরুরি।
জনসেবাকে আরও গতিশীল করতে আখতার হোসেন একটি ‘জনসেবা সেন্টার’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, এনআইডি সংশোধন এবং উন্নয়ন কাজে প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র প্রদানে তিনি সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করবেন।
জবাদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বরাদ্দ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা শুরু হয়েছে। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও এই জবাবদিহিতার চর্চা দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হলে একটি দায়িত্বশীল ও জনমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
সময়ের আলো/টিএইচ