প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সহযোগিতা ও জনমত তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। এই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে সব অর্জনই বারবার ভেঙে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য একটি শান্ত ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, সোশ্যাল মিডিয়াসহ সব মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে জনমত গঠন করতে হবে।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি মূলত জাতীয় সংসদকেন্দ্রিক হওয়া উচিত। শুধু রাজপথে হৈচৈ করে কোনো কিছু দীর্ঘস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। যেকোনো সৃজনশীল কাজের জন্য ধৈর্য ধরে বসা, আলোচনা করা এবং সুচিন্তিতভাবে কাজে হাত দেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের এ ক্ষেত্রে প্রতিবাদী ও সাহসী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, বিশ্বের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ভিত্তি ছাড়া কোনো জাতি প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ও সংগীত শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সুফল আগামী এক দশকের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণদের বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন দুর্নীতির কড়া সমালোচনা করেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আলোচিত ‘বালিশ দুর্নীতি’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা হওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। উক্ত সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ছাত্রনেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/টিএইচ