পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করেছেন রাজধানীবাসী। আর সেই প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি।
প্রথম দিনেই বিক্রি হচ্ছে ২৩ মে’র যাত্রার টিকিট। এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি করা হবে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী যাত্রীরা নির্দিষ্ট দিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
অন্যদিকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের জন্য ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে।
সার্ভারে চাপ কমাতে এবারও অঞ্চলভিত্তিক আলাদা সময়ে টিকিট ছাড়া হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
রেলওয়ে বলছে, এতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রতিটি নিবন্ধিত যাত্রী ঈদে যাওয়া ও ফেরার জন্য একবার করে টিকিট কিনতে পারবেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকছে। সহযাত্রীদের নামও যুক্ত করতে হবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ঈদের অগ্রিম কিংবা ফিরতি কোনও টিকিটই ফেরত দেওয়া যাবে না।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় ২৮, ২৯ ও ৩০ মে’র টিকিট বিক্রির জন্য আলাদা পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। চাঁদ দেখার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
যাত্রীর চাপ সামাল দিতে মোট আসনের ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ দাঁড়িয়ে ভ্রমণের টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। তবে বিরতিহীন ট্রেনে এই সুবিধা মিলবে না।
টিকিট কিনতে প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। যারা আগে থেকেই নিবন্ধিত, তারা সরাসরি লগইন করে টিকিট কিনতে পারবেন।
লগইনের পর যাত্রার তারিখ, গন্তব্য, স্টেশন ও শ্রেণি নির্বাচন করে ট্রেন খুঁজতে হবে। এরপর আসন খালি থাকলে পছন্দের সিট নির্বাচন করে অনলাইনে মূল্য পরিশোধ করা যাবে।
পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ই-টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে এবং ই-মেইলেও পাঠানো হবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে ট্রেনের টিকিটে ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। তাই যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে রেলওয়ে।
এএডি/