টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা এবং পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে, যেখানে ১৯ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙ্গামাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, উপদ্রুত অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সরকার দুর্গতদের পাশে সব ধরনের সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী জানান, দুর্গত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি ও বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুর্গত পাঁচ জেলায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা করে নগদ (জিআর) ও ২০০ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। আজ পুনরায় চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলাভেদে আরও ২০০ থেকে ৩০০ টন করে চাল বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রত্যেক দুর্গত জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাহাড়ধসে বারবার প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
একই অধিবেশনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ৩০০ বিধিতে জানান, পার্বত্য তিন জেলায় গতকাল ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসনকে দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে বিশেষ বরাদ্দের টাকা আজ সকালে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি