করেনি কোনো অপরাধ, তবু কেন রাত কাটবে লোহার গারদে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

কল্পনা করুন- চারপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, মাথার ওপর ঘড়ঘড় শব্দে ঘুরছে একটি পুরনো ফ্যান, আর আপনি শুয়ে আছেন একটি সাধারণ বিছানায়।

2026-05-13T14:55:00+00:00
2026-05-13T14:55:00+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
করেনি কোনো অপরাধ, তবু কেন রাত কাটবে লোহার গারদে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কল্পনা করুন- চারপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, মাথার ওপর ঘড়ঘড় শব্দে ঘুরছে একটি পুরনো ফ্যান, আর আপনি শুয়ে আছেন একটি সাধারণ বিছানায়। সঙ্গী বলতে কোণায় রাখা একটি মাটির কলস আর কালো রঙের মোটা লোহার গরাদ। কোনো অপরাধ না করেই স্রেফ রোমাঞ্চের খোঁজে বা কয়েদিদের জীবন কেমন হয় তা উপলব্ধি করতে আপনি কাটিয়ে দিতে পারেন একটি পুরো রাত। ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত চঞ্চলগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগার সাধারণ নাগরিকদের জন্য এমনই এক অভাবনীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিল দ্য জেল’।

হায়দরাবাদের এই প্রাচীন কারাগারটি সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। তবে পরিদর্শক হিসেবে নয়, বরং ‘অস্থায়ী কয়েদি’ হিসেবে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে কারাগারের কঠোর শৃঙ্খলা, একাকীত্ব এবং স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝানো। কারাগারে প্রবেশের পর একজন দর্শনার্থীকে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রবেশপথ পেরিয়ে একটি সরু করিডোর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বিশেষ ব্যারাকগুলোতে। সেখানে নেই কোনো বিলাসিতা, নেই স্মার্টফোনের টুংটাং শব্দ। আছে শুধু নিয়মের বেড়াজাল।

পর্যটকদের জন্য তৈরি এই ব্যারাকগুলো অত্যন্ত সাদামাটা। একটি কক্ষের সাদা দেয়ালের পাশে রাখা একটি একক শয্যা, যার ওপর বিছানো গাঢ় নীল রঙের চাদর। কক্ষে রাখা আছে একটি মাটির পানির পাত্র এবং একটি ছোট শৌচাগার। লোহার ভারী গরাদ বাইরের করিডোর থেকে কক্ষটিকে আলাদা করে রেখেছে। তবে উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন কক্ষগুলোতে রয়েছে দ্বিমুখী গরাদ, যেখানে চলাচল ও দৃষ্টিসীমা অনেকটাই সীমিত। আবার যারা দলগতভাবে এই অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য রয়েছে চার শয্যার বিশেষ ব্যারাক, যা ভারতীয় কারাগারগুলোর সাধারণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

কারাগার কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ব্যারাকগুলো সাধারণ কয়েদিদের থাকার জায়গা থেকে আলাদা। এগুলো শুধুমাত্র পর্যটন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, যাতে নিয়মিত কারাকার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য কর্তৃপক্ষ দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে। যদি কেউ পূর্ণ ২৪ ঘণ্টা কারাগারের জীবন উপভোগ করতে চান, তবে তাকে গুনতে হবে ২০০০ টাকা। আর যারা সময়ের অভাবে কিছুটা কম থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ১০০০ টাকার বিনিময়ে ১২ ঘণ্টার প্যাকেজ। এই সময়ে দর্শনার্থীদের কয়েদিদের মতো পোশাক পরতে হয় এবং কারাগারের খাবারই খেতে হয়।

এছাড়া যারা রাত কাটাতে চান না, তাদের জন্য রয়েছে ‘প্রিজন মিউজিয়াম’ বা জেল জাদুঘর দেখার সুযোগ। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে মাত্র ১০ টাকা এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা। তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

হায়দরাবাদের এই উদ্যোগটি ভারতকে পঞ্চম ‘জেল মিউজিয়াম’ উপহার দিল। এর আগে সেলুলার জেল (আন্দামান), আলিপুর জেল (কলকাতা), বেঙ্গালুরু এবং গোয়াতে এই ধরনের মিউজিয়াম তৈরি হয়েছে। চঞ্চলগুড়া কারাগারের এই মিউজিয়ামটি নিজাম আমল থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত কারাগারের বিবর্তন তুলে ধরেছে। এখানে রয়েছে পুরনো আমলের হাতকড়া, ডাণ্ডাবেড়ি এবং ভক্ত রামদাসু ও দশরথী কৃষ্ণমাচার্যুলুর মতো প্রখ্যাত বন্দিদের স্মৃতি। এছাড়া নাগার্জুন সাগর বাঁধ নির্মাণে কয়েদিদের শ্রম ও অবদানের গল্পও এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।

তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল শিব প্রতাপ শুক্লা এই উদ্যোগের উদ্বোধনকালে বলেন, কারাগার এখন আর শুধু শাস্তির জায়গা নয়, এটি সংশোধনের কেন্দ্র। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হবে। 

কারা মহাপরিদর্শক (ডিজিপি) সৌম্য মিশ্র জানান, এই উদ্যোগটি কারাগার প্রশাসন এবং বন্দিদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণের ভুল ধারণা ভাঙতে সাহায্য করবে।


/কহু


  বিষয়:   ভারত  কারাগার 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: