দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালের পর আর কোনো পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়ায় এই পে-স্কেলকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলসহ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় পে-স্কেল চালু হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটটি পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে তা দীর্ঘায়িত হয়েছে।
তবে ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে নতুন করে তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যেই সম্ভাব্য একটি বেতন কাঠামোর তালিকা বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্থাৎ প্রথম গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরপর দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
চতুর্থ থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কমে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
এরপর নিম্ন গ্রেডগুলোতেও বেতন কাঠামো নির্ধারণে ধারাবাহিকতা রাখা হয়েছে। একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, দ্বাদশ গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা, ত্রয়োদশ গ্রেডে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা এবং চতুর্দশ গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।
ক্রমাগতভাবে নিম্ন গ্রেডগুলোতে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন বিংশ গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো কাঠামো নয় বরং একটি প্রস্তাবিত তালিকা মাত্র। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের পরই চূড়ান্ত পে-স্কেল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে।
এএডি/