নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিনিয়োগ বান্ধব নীতিমালা করবে সরকার : মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সরকার একটি বিনিয়োগ-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ,

2026-05-14T19:28:59+00:00
2026-05-14T19:28:59+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিনিয়োগ বান্ধব নীতিমালা করবে সরকার : মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম 
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সরকার একটি বিনিয়োগ-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেজা আয়োজিত ‘সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সোলার পিভি ও বিইএসএস পিপিপি প্রকল্প’ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সোনাগাজী প্রকল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বা ‘টেস্ট কেস’। এটি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বেজার মালিকানাধীন জমি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রকল্পের কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করা হয়েছে: জমির মালিক ও স্পন্সর হিসেবে বেজা (BEZA), অফটেকার হিসেবে পিডিবি, গ্রিড ইভাকুয়েশনের জন্য পিজিসিবি, নীতি সহায়তার জন্য পাওয়ার ডিভিশন, সমন্বয়ের জন্য স্রেডা এবং পিপিপি কাঠামো ও ক্রয় সহায়তার জন্য পিপিপিএ।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সরকার কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে তা যাচাই করে একটি নীতিমালা তৈরির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকার শীঘ্রই একটি বিনিয়োগ-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এই খাতে লাভজনক ব্যবসা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মন্ত্রী স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গৃহীত একটি অনুকূল নীতিমালা কীভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছিল। তিনি সৌরশক্তি খাতেও একই ধরনের নীতিমালা প্রবর্তন করতে চান যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হয় এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

সৌরবিদ্যুতের সঞ্চয় ক্ষমতা (স্টোরেজ ক্যাপাসিটি) বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসার খরচ কমাতে এবং সৌরশক্তি ব্যবসাকে সহজতর করতে সরকার ফ্রেম, ফটোসেল, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করতে পারে।

পাকিস্তানের সফলতার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সে দেশের সরকার সৌর সরঞ্জাম আমদানি করে বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দিয়েছিল, যা ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশও একই পথ অনুসরণ করতে পারে- হয় সরাসরি সৌর সরঞ্জাম আমদানি করে, অথবা বেসরকারি খাতকে শূন্য শুল্কে আমদানির অনুমতি দিয়ে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার যদি আমদানিতে ন্যূনতম শুল্ক ও কর ধার্য করে এবং পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে (কর অবকাশ) সুবিধা দেয়, তবে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন। তিনি বলেন, “রাজস্বের আগে বিনিয়োগ আসতে হবে। পাঁচ বছর পর সরকার স্বাভাবিকভাবেই কর পাবে।” বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনার জন্য প্রস্তাব করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকায় সৌরশক্তির বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এবং ঢাকার এ জাতীয় আবাসিক এলাকার ছাদগুলো ‘নেট মিটারিং’ সিস্টেমের আওতায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে লিজ দিলে শুধু ঢাকা শহর থেকেই ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাবে এবং সাশ্রয়কৃত বিদ্যুৎ শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, সরকারের বিনিয়োগ-মুখী উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো বিপ্লব ঘটাবে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির যাত্রায় বেসরকারি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের মিশ্রণে আরও ভারসাম্য আনতে হবে। আমদানিকৃত জ্বালানির ভূমিকা থাকবে ঠিকই, তবে এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশকে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের অস্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আর্থিক বোঝার মুখে ফেলে দেয়। সৌরবিদ্যুৎ এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যদি প্রকল্পগুলো বড় পরিসরে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কারণে এই প্রকল্পটি আধুনিক ও দূরদর্শী। বাংলাদেশ যেহেতু সৌরশক্তি এবং অন্যান্য পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে, তাই গ্রিডের স্থিতিশীলতা এবং পিক আওয়ার ব্যবস্থাপনার জন্য স্টোরেজ ধীরে ধীরে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

তিনি এই উদ্যোগকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত পরামর্শ ও মতামতকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সরকারের উচিত স্পষ্ট নীতিমালা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক পরিবেশ তৈরি করা এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি বেজাকে ধন্যবাদ জানান।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   জ্বালানি  নবায়নযোগ্য জ্বালানি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: