জিন্নাত আলী নামে এক রোগীকে চিকিৎসা অবহেলায় হত্যার অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জিন্নাত আলীর ছেলে আবু হুরায়রা এ মামলা করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।
পরে বিকেলে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এম নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার, রিসিপশনের জুনায়েদ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল, মশিউর রহমান লাভলু এবং সিকিউরিটি গার্ড সাইদুর।
মামলার বিবরণ মতে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জিন্নাত আলীকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শহিদ ও তাঁর সহযোগীরা ‘আইসিইউ খালি নেই’ বলে ভুল বুঝিয়ে রোগীকে শ্যামলীর ‘হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে’ পাঠায়। সেখানে ভর্তির পর দফায় দফায় মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়।
আবু হুরায়রা সন্দেহ প্রকাশ করে বাবাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে চাইলে আসামিরা তাঁকে মারধর করে এবং জিন্নাত আলীর চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। পরে টাকা দিয়ে বাবাকে মুক্ত করে আবারও হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান আবু হুরায়রা। ওইদিন বিকেলেই জিন্নাত আলী মারা যান।
পরিকল্পিতভাবে দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে অবহেলায় হত্যার অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি