ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এবং দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন না হওয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা ক্রমেই ফিকে হতে চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নোয়াখালীর মাইজদি বাজারে আয়োজিত জেলা ও থানা যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চরমোনাই পীর স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ব্যর্থতার দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে। তিনি মনে করেন, অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রেক্ষাপটেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, যা দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। উল্টো সংস্কারের জন্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে, যা জুলাইয়ের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের আমির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা ছিল জনদুর্ভোগ দূর করা এবং স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ ঘটানো। সরকার যদি সেই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে গণ-অভ্যুত্থানের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি সরকারকে দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘবে কাজ করার পরামর্শ দেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ পুনরায় রাজপথে আছড়ে পড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
পরিশেষে তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও নিজেদের অঙ্গীকার পূরণে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। জনস্বার্থ রক্ষায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে সবসময় সক্রিয় থাকবে বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সময়ের আলো/টিএইচ