বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া এবারই প্রথম নয়। ১৯৭৮ সালে মেগা এই ইভেন্টে ইরানের যাত্রা শুরু। তবে কখনো ধারাবাহিকভাবে খেলার সুযোগ হয়নি। মাঝে বেশ কয়েকটি আসরে বাছাই পর্বই পেরুতে পারেনি। ১৯৮০-৯০ দশকের মতো একবিংশ শতাব্দীতেও ইরান কখনো বিশ্বকাপে ধারাবাহিক দল ছিল না।
তবে গত চার বিশ্বকাপে টানা বাছাই পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বের টিকেট কেটেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপও রয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে মাঠে গড়াবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডা এই তিন দেশের আয়োজনে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। সেই আসরে অংশ নিতে ইরান ফুটবল দল তুরস্কে যাচ্ছে। সেখানে প্রস্তুতি সেরে পরে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেবে।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে রাজকীয় বিদায়ি সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে আমির গালেনির দলকে। বুধবার রাতে হাজারো সমর্থকদের উপস্থিতিতে রাজধানী তেহরানের ইনকিলাব চত্বরে ফুটবল দলকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। লাল-কালো ট্রাউজার পরে পুরো দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শুরু থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ছিল, যা এখনও রয়েছে।
সম্প্রতি ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শর্তসাক্ষেপে যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। আমেরিকা তাদের দেশে ইরানকে কতটা ভালোভাবে গ্রহণ করে এ নিয়ে দ্বিধা-শঙ্কা রয়েছে সবার মনে। ইরানও এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। যদিও ফিফা তাদের আশ্বস্ত করেছে। ২৯ মে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে তুরস্কের আনাতোলিয়ায় গাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে।
সেখানে আরও একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলার কথা জানিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সাধারণ সম্পাদক হেদায়াত মোমবেয়িনি। এবারের আসরে ‘জি’ গ্রুপ থেকে অংশ নেবে ইরান। ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু হবে। গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে ইরানের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর।
যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের প্রবেশ এবং সেখানে ইরানের বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বুধবার রাতে সমর্থকদের উল্লাস ও উন্মাদনায় কোনো কমতি ছিল না। অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়রা মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমসূচক বক্তব্য রাখেন এবং দর্শকের অভিবাদনের জবাব দেন।
একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ইরান ফুটবল দলের নতুন জার্সিও উন্মোচন করা হয়। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘গত চারটি বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে এটিই ছিল ফুটবলারদের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সেরা বিদায় সংবর্ধনা।’
উৎফুল্ল জনতার উদ্দেশে এফএফআইআরআই সভাপতি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা জনগণের সঙ্গেই আছে। আর সাধারণ মানুষ দেশের মর্যাদা, সম্মান ও শক্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেখানে যেন ইরানের পতাকা সমুন্নত থাকে এবং সম্মান রক্ষা করা হয়।’ কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।