সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও অবনতি হলে হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সরকার এই সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামের টিকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে টিকার কার্যকারিতা ও এর সুফল পেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে নানামুখী চ্যালেঞ্জের কারণে সব ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা তৎক্ষণাৎ দৃশ্যমান না হলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানের বাইরে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখানে প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে নতুন করে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত মাত্র দুই মাসেই দেশজুড়ে এই রোগে মোট ৪৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই হাসপাতাল পরিদর্শন এবং চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পরিস্থিতির নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ