চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন টিলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে উদ্ধার হয়েছে খণ্ডিত মরদেহ ও দেহবিহীন মাথার খুলি। একই এলাকার দুটি টিলায় প্রায় এক কিলোমিটার ব্যবধানে এসব উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে একটি টিলার খাদ থেকে মানুষের মাথার খুলিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে গত শনিবার একই ইউনিয়নের নতুন আশ্রয়ণ এলাকার আরেকটি টিলা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কয়েকদিন অভিযান চালিয়েও তখন বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার উদ্ধার হওয়া খুলিটি আগের সেই মরদেহের অংশ হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৬ নম্বর ঘরের বাসিন্দা শিরু আক্তার দুপুরে ছাগল খুঁজতে গিয়ে টিলার খাদে সাদা রঙের একটি বস্তু দেখতে পান। কাছে গিয়ে সেটি মানুষের মাথার খুলি হিসেবে বুঝতে পারেন। পরে আতঙ্কিত হয়ে তিনি পাশের দোকানদার আজমকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
আরও পড়ুন
শিরু আক্তার বলেন, ‘ছাগল খুঁজতে গিয়ে নিচে সাদা রঙের মাথার মতো কিছু দেখতে পাই। কাছে গিয়ে বুঝতে পারি এটি মানুষের মাথার খুলি। ভয় পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে আসি।’
স্থানীয় দোকানদার আজম বলেন, শিরু খুব ভয় পাওয়া অবস্থায় এসে বিষয়টি জানায়। পরে আমি পুলিশকে খবর দিই।
ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খুলিটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেহবিহীন একটি মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কয়েকদিন আগে একই এলাকায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন মরদেহের অংশ। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে, গত শনিবার বিকেলে পাইন্দং ইউনিয়নের নতুন আশ্রয়ণ এলাকার একটি টিলা থেকে এক নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন শিশু বনমোরগ শিকারে গিয়ে টিলার ঢালে মরদেহটি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এএডি/