ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি-কাতারকে যৌথ হামলা চালাতে রাজি করানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছে আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরব ও কাতারকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ সামরিক হামলায় অংশ নিতে রাজি করানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা

2026-05-16T00:04:38+00:00
2026-05-16T17:01:31+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি-কাতারকে যৌথ হামলা চালাতে রাজি করানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছে আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১২:০৪ এএম  আপডেট: ১৬.০৫.২০২৬ ৫:০১ পিএম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আবুধাবির কাসর আল-শাতিতে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি : মিডল ইস্ট আই ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরব ও কাতারকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ সামরিক হামলায় অংশ নিতে রাজি করানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর গালফ অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করেন, যার মধ্যে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানও ছিলেন।

এরপর তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গালফ দেশগুলোর দিকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। ২০২১ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ইউএই এই পাল্টা হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়— প্রায় ৩,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দেশটিতে আঘাত হানে।

তবে সৌদি আরব ও অন্যান্য গালফ দেশগুলো আমিরাতের প্রেসিডেন্টের যৌথ হামলার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। 

এই ঘটনা দেখায় যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গালফ দেশগুলোকে একত্রিত করার বদলে বরং সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। 

পরবর্তীতে জানা যায়, সৌদি আরব ও আমিরাত উভয়েই ইরানে পাল্টা হামলা চালালেও তারা আলাদাভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে কম কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং দ্রুত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক সমাধানের দিকে যায়। অন্যদিকে আমিরাত ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এপ্রিলের শুরুতে আমিরাত ইরানের লাভান দ্বীপে আঘাত করে, যা যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময়ের কাছাকাছি ঘটে এবং এতে বড় ধরনের আগুন লাগে ও অনেক ক্ষতি হয়। 


আমিরাতের ঝুঁকি ও অবস্থান

সৌদি আরবের তুলনায় আমিরাত ইরানের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির পর্যটন ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবুধাবি প্রকাশ্যে ও গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায় এবং জাতিসংঘে একটি প্রস্তাবও তোলে, যাতে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন চাওয়া হয়।

আমিরাত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের(জিসিসি) প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল বলে সমালোচনা করেন। উত্তেজনার মধ্যে আমিরাত ওপেক তেল কার্টেল থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 

এদিকে আমিরাত তার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দাবি করেন, ইসরায়েল আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছে।

তবে আমিরাত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশ সফরের দাবি অস্বীকার করেছে। 

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বনেতা গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন— এর মধ্যে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও রয়েছেন।  


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইরান  সৌদি-কাতার  হামলা  আমিরাত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: