বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সুদিন যেন কিছুটা ফিকে হতে শুরু করেছে। মাত্র কিছুদিন আগেই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ট্রিলিওনিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও, শেয়ারবাজারের বড় দরপতনের কারণে তার মোট সম্পদ এখন ৭৯৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
বিশেষ করে শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্পেসএক্সের শেয়ারের নজিরবিহীন পতনে মাত্র একদিনেই মাস্কের সম্পদ কমেছে সাড়ে ৪০ বিলিয়ন ডলার। তবে সম্পদের এই বিশাল অংশ হাওয়া হয়ে যাওয়ার পরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির আসনটি এখনও তার দখলেই রয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৯৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবারও নাসডাকে স্পেসএক্সের প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল প্রায় ১৪২ দশমিক ৫০ ডলার। কিন্তু শুক্রবার লেনদেন শেষে তা বড় পতনের মুখ দেখে ১২৩ দশমিক ৯৯ ডলারে এসে ঠেকে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত বিনিয়োগকারীদের আগ্রাসীভাবে মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট টেকিং) ফল; কোম্পানির মৌলিক ব্যবসায়িক কোনো দুর্বলতা বা সংকটের কারণে এমনটি হয়নি।
চলতি বছরের জুনে স্পেসএক্সের বহুল প্রতীক্ষিত শেয়ারবাজার অভিষেকের (আইপিও) প্রথম দিনেই কোম্পানিটির বাজার মূল্যায়ন ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যার হাত ধরে মাস্ক ট্রিলিওনিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করেন। এই মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি।
আইপিও-র তথ্যানুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রতি ১ ডলার ওঠানামা করলে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তন ঘটে।
শুধু স্পেসএক্সই নয়, মাস্কের অপর জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার ১১ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি নিজেই। শুক্রবার একদিনেই টেসলার শেয়ারের দাম ১০ ডলারের বেশি কমে লেনদেন শেষে ৩৮০ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে আসে। দুই প্রধান কোম্পানির এই যৌথ পতনের কারণেই মূলত ইলন মাস্কের সম্পদে এত বড় ধাক্কা লেগেছে।
সময়ের আলো/জেডি