বিদায় নিচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

জাতীয়

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তিনি শনিবার (১৬ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে

2026-05-16T21:13:39+00:00
2026-05-16T21:13:39+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বিদায় নিচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম 
প্রণয় ভার্মা। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তিনি শনিবার (১৬ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। এর আগে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে বিদায় নেন। 

হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আগ্রামী ২৮ মে ঢাকা থেকে বিদায় নিতে পারেন। হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার জায়গায় ভারতের সাবেক মন্ত্রী এবং বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দিয়েছে মোদি সরকর।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, তার মেয়াদ শেষ উপলক্ষ্যে শনিবার ঢাকায় অবস্থিত ইন্ডিয়া হাউসে ঢাকায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশে বিগত দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত উভয়পক্ষের জন্য কল্যাণ কামনা করেন। এই সময়ে তিনি কিংবদন্তি শিল্পী শচীন দেব বর্মণের গাওয়া কালজয়ী গান ‘শোনো গো দখিন হাওয়া, প্রেম করেছি আমি, লেগেছে চোখেতে নেশা, দিক ভুলেছি আমি’সহ বেশকিছু গান গেয়ে শোনান। কমবেশি আড়াই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানটি বেশ প্রাণবন্ত ছিল।

অনুষ্ঠানে মিসেস মনু ভার্মা নিজের তৈরি করা বিভিন্ন খাবার দিয়ে রসালো গণমাধ্যমকর্মীদের আপ্যায়ন করেন। যার মধ্যে আলুর তৈরি একটি আইটেম এবং আম দিয়ে একাধিক তৈরি করা একাধিক আইটেম বেশ সুস্বাদু ছিল।

এদিকে, সাবেক মন্ত্রী এবং বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনারের দায়িত্ব লাভ করেছেন। নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আগামী জুনমাসে ঢাকায় আসতে পারেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দিল্লির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত দেড় বছরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। দিল্লি চাচ্ছে যে এই সম্পর্ককে আবার পুনরুজ্জীবিত করে পুনরায় নিবিড় সম্পর্ক গড়তে। যে কারণে পেশাদার কূটনীতিক বাদ দিয়ে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের ওপর আস্থা রেখেছে মোদী সরকার। সেখানে সাবেক মন্ত্রী এবং বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে উপযুক্ত বলে মনে মোদী সরকার। কারণ দুই বাংলা নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর ভালো জানাশোনা আছে, তিনি ভালো বাংলা বলতে পারেন এবং ঝিমিয়ে পড়া সম্পর্ককে টেনে তুলতে তিনি একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ।

জানা গেছে, ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম নয়াদিল্লিতে। তিনি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে। তিনি হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন। আশির দশকে তিনি কংগ্রেসে যোগ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। ২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ, কিন্তু ওইবার তিনি বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। এরপর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশ ত্রিবেদীর। যার ধারাবাহিকতায় গত ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং গত ৬ মার্চ তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   প্রণয় ভার্মা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: