জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও পরিচিত অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের আকস্মিক ও অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার (১৬ মে) রাতে দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
ভারতের ভেলোরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এনসিপির পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন এবং বিপুল সংখ্যক শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে তরুণ এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব লিভার-সংক্রান্ত তীব্র জটিলতা তথা ‘হেপাটাইটিস এ’ এবং ‘হেপাটাইটিস ই’ ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
অসুস্থতা বাড়লে তাকে প্রথমে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভারতের ভেলোরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শোকবার্তায় কারিনা কায়সারের ঐতিহাসিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দিনগুলোতে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে রাজপথে ও ভার্চুয়াল জগতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
স্বৈরাচার বিরোধী সেই কঠিন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্য তুলে ধরে জনমত গঠনে তিনি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন। দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায়, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে তার এমন সোচ্চার ও আপসহীন অবস্থান দেশের হাজার হাজার তরুণ ও যুবসমাজকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, কারিনা কায়সারের এই আকস্মিক ও অকালমৃত্যু দেশের উদীয়মান সাংস্কৃতিক এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট সৃষ্টির অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। অল্প বয়সে তার চলে যাওয়া দেশের ডিজিটাল মিডিয়া জগতে এক বড় শূন্যতার সৃষ্টি করল। ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলা এই তরুণ অভিনেত্রীর অবদান দেশের মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘ দিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
সময়ের আলো/টিএইচ