দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থেই শিখতে পারে। শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে সেটাই হবে সফলতার মূল সূচক।
রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কার্যালয়ে ‘প্রাথমিক স্তরে বাংলা ভাষার দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রমের বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং’ বিষয়ক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে সবার আগে কারিকুলাম সঠিকভাবে ডিজাইন করতে হবে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় ‘আর্লি লার্নিং’ বা প্রাথমিক বয়সের শেখার বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভাষা শিক্ষা ও মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জন করা। শুনে বোঝা, বলে বোঝানো, পড়ে বোঝা এবং লিখে বোঝানো— এই চারটি ভাষাগত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে।
বর্তমান পাঠ্যবইয়ের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেক্সটবুকের বর্তমান আকার ও উপস্থাপনা শিশুদের উপযোগী নয়। একজন ছয় বছরের শিশুর হাতে বড়ো আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শেখার আগ্রহ কমে যায়। তাই তিনি ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। এর পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষায় সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাকেও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি মনে করেন, এসব বিষয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমেই শিশুদের সহজে শেখানো সম্ভব।
নতুন পরিকল্পনা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন প্রাথমিক কারিকুলাম ডিজাইন ও পাইলটিং সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২০২৮ সালের মধ্যে দেশব্যাপী তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এই নতুন কারিকুলামের মূল ভিত্তি হবে ভাষা শিক্ষা, গণিত, সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি।
তিনি আরও বলেন, নতুন কারিকুলামের আলোকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, টেক্সটবুক প্রণয়ন এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও পুনর্বিন্যাস করা হবে। ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনা ও পরিবেশ শিশুদের শেখার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে ‘লার্নিং আউটকাম’ বা শিখনের ফল।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী।
এছাড়াও নেপের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জেডি