বর্তমান সরকারের প্রথম জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ২৪টি নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
রোববার (১৭ মে) বিভাগের উপসচিব মো. মামুন স্বাক্ষরিত এই চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনাগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর যে ২৪ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে সেগুলো হলো- প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে; দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; সব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে; অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে; নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে; শূন্য পদসমূহ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে এবং প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহি নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে; সেবাদান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হবে; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে; বাজারে মজুতদারি, কারসাজি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং, অভিযান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার, বীজ, সেচ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; ১৫। জনগণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে; সরকারি সেবাদান হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে; মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে; বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে; দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক সরকারি উদ্যোগসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে; তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে; খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
/কেএইচও