রাজধানীর মুগদা থেকে উদ্ধার খন্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম মোকাররম মিয়া (২৮)। তিনি সৌদি প্রবাসী ছিলেন। সোমবার (১৮মে) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনায় হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমাকে আটক করেছে র্যাব কর্মকর্তারা। পরকিয়ার জেরে খুন হয়েছেন তিনি।
মোকাররমের চাচাতো ভাই মো. রিফাত জানান, তাদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রামে। তার বাবার নাম সোহরাব মিয়া এবং মায়ের নাম সামিনা বেগম। মোকাররম গত তিন বছর ধরে সৌদি আরব ছিলেন। তার স্ত্রী জোনাকি আক্তার গৃহিণী। দুই ছেলে মুজাহিদ (৪) ও বায়জিদ (৬) মায়ের সাথে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন।
তিনি আরও জানান, মোকাররম সর্বশেষ ১৩ মে ছেলেদের সাথে ফোনে কথা বলেন। তখন তিনি কাজে যাচ্ছেন, পরে বাসায় ফিরে কথা বলবেন বলে জানান বাচ্চাদের। এরপর আর তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। রোববার রাতে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের বাড়িতে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে মোকাররমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাঠায়। এরপরই পরিবার ঢাকায় ছুটে আসেন। থানায় এসে বিষয়টি নিশ্চিত হন।
কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি জানাতে না পারলেও, একই গ্রামে আরেক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মোকাররমের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন নিহতের চাচাতো ভাই রিফাত। তিনি বলেন, মোকাররম যেদিন থেকে যোগাযোগের বাইরে, সেদিন থেকেই একই গ্রামের সেই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতেও তালা ঝুলানো। মোকাররমকে যারাই খুন করুক, এটি খুবই পরিকল্পিত। হত্যাকারীরাই তাকে দেশে ডেকে এনেছে। তবে তার দেশে আসার খবরটি পরিবারের কেউ জানতো না।
এর আগে, রোববার দুপুরে রাজধানীর মুগদা মান্ডার ১ম গলির একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে পলিথিনে ভর্তি মরদেহের ৭ টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রোববার দিবাগত মধ্যরাতে পূর্ব মানিকনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা।
/কহু