রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, রেলস্টেশন ও অন্যান্য জনবহুল এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর সরানোর সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রাণী অধিকারকর্মীদের আপত্তি ও পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে আদালত জানিয়েছে, জননিরাপত্তার স্বার্থেই আগের নির্দেশ বহাল থাকবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আবেদনগুলো খারিজ করে দেন। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, বন্ধ্যাকরণের পর বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে আর আগের এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণ ও কামড়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং বিদেশি পর্যটকদের আক্রান্ত হওয়ার বহু ঘটনা সামনে এসেছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পরিচিত এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হলে কুকুরগুলো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তবে আদালত এই যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি।
আরও পড়ুন
ভারতের শীর্ষ আদালত আরও মন্তব্য করেছে, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারগুলোর কার্যক্রম ছিল অপরিকল্পিত ও দুর্বল। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি বলেও সমালোচনা করেন বিচারকরা।
আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকাদান ও বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া পরিচালিত হওয়ায় পশু জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নির্দেশনায় আদালত প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অব ইন্ডিয়ার নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি পশু বন্ধ্যাকরণ কেন্দ্র স্থাপন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও ইমিউনোগ্লোবুলিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ দায়িত্ব পালনের সময় তাদের বিরুদ্ধে সহজে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেওয়া এক রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জনপরিসর থেকে বেওয়ারিশ কুকুর সরিয়ে শেল্টার হোমে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। একইসঙ্গে বন্ধ্যাকরণের পর তাদের আগের স্থানে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশও বহাল রাখা হয়। ওই রায়ের পর থেকেই দেশজুড়ে প্রাণী অধিকার সংগঠন ও পশুপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
এরও আগে দিল্লি ও আশপাশের আবাসিক এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই সময় প্রশাসনের কাজে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
এএডি/