বৈশ্বিক বৈদেশিক সহায়তায় নজিরবিহীন পতনের কারণে গত ১৮ মাসে অন্তত ১০ লাখ নারী মানবিক ও জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেন। সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সংকটাপন্ন দেশগুলোতে নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ নারী সংগঠন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের সেবার চাহিদা বেড়েছে। তবে তহবিল সংকটের কারণে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বর্তমান চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। এছাড়া প্রতি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।
প্রতিবেদনটি বিশ্বের ৫২টি সংকট ও সংঘাতকবলিত দেশের ৮৫৫টি নারী-নেতৃত্বাধীন ও নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া ক্যালটর্প বলেন, ‘সংকটপূর্ণ অঞ্চলে নারী সংগঠনগুলোই অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আফগানিস্তান, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং হাইতির মতো দেশে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখানে এসব সংগঠন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতার বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা কর্মী ছাঁটাই, বাজেট সংকোচন এবং কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য উদ্ধৃত করে ইউএন উইমেন জানায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বৈদেশিক সহায়তায় ‘ঐতিহাসিক পতন’ ঘটেছে। সংস্থাটির মতে, এ পতনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একাই দায়ী। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তা খাতে ব্যাপক ব্যয় কমিয়েছে এবং ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) বিলুপ্ত করেছে।
এ নিয়ে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি বৈদেশিক সহায়তা দেয় এবং ভবিষ্যতেও দেবে, তবে তা আরও কৌশলগত, জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ উপায়ে পরিচালিত হবে।’
ইউএন উইমেনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশ সংগঠন তাদের সেবাভুক্ত নারীদের মধ্যে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর জন্য টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউএন উইমেন।
সংস্থাটির ভাষ্য, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও মেয়েদের পাশে থাকা এসব সংগঠনও টিকে থাকতে পারবে না।
সময়ের আলো/কেএইচও