মরে গেলে কম্বল প্যাঁচিয়ে ফেলে দেয়, মরদেহ খায় শেয়ালে

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয়

চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বিচ্ছিন্ন একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। আরাকান আর্মির দ্বারা প্রতিনিয়ত অপহরণের

2026-05-20T01:22:50+00:00
2026-05-20T01:22:50+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
মরে গেলে কম্বল প্যাঁচিয়ে ফেলে দেয়, মরদেহ খায় শেয়ালে
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১:২২ এএম 
চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বিচ্ছিন্ন একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। ছবি : সংগৃহীত
চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বিচ্ছিন্ন একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। আরাকান আর্মির দ্বারা প্রতিনিয়ত অপহরণের শিকার হচ্ছেন সেখানকার জেলেরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধাবস্থা ও চরম রাজনৈতিক সংকটের মাঝে ক্ষমতার বলি হচ্ছে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঝুঁকি নিয়ে দূরবর্তী সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আরাকান আর্মির হাতে অপহরণ হচ্ছে তারা। সরকারি নিষেধাজ্ঞায় পর্যটন কমে যাওয়া সে সঙ্গে সেখানে বহিরাগতদের ক্ষমতার রাজনীতির বলি হচ্ছে তারা।

সম্প্রতি ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্রিমিওনোলজি কালচারাল সোসাইটির (ডিইউসিসিএস) এবং সেন্টমার্টিনবাসীর জীবন-জীবিকা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্সের (সিসিডি) যৌথ আয়োজেন অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে উঠে আসে বন্দিদের ওপর আরাকান আর্মির নৃশংস নির্যাতনের লোমহর্ষক চিত্র।

সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন পেশায় জেলে। গত বছরের আগস্টে তিনিসহ আরও কয়েকজন বাংলাদেশি জেলেকে অন্যায়ভাবে আটক করে আরাকান আর্মি।

মোহম্মদ আমিন বলেন, আমরা গত বছরের আগস্টে আটক হই। আটক অবস্থায় একেকটা দিনকে মাসের মতো মনে হতো আর মাসকে মনে হতো বছরের চেয়েও বেশি।

আরাকান আর্মির হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা গেছিলাম মাছ‌ ধরতে, আমাদের বর্ডারের সাগরেই আমরা জাল ফেলেছিলাম। 

কিন্তু আমাদের তিনটা ট্রলার আটক করে আরাকান আর্মি। তারা আমাদের হাত উঠাতে বলে, এরপর আমাদের হাত চোখ, বেঁধে ফেলে। আমাদের রাখা হয় জাল রাখার জায়গায়।

ধরার সঙ্গে সঙ্গে ওরা আমাদের লাথি মারতে থাকে। মার খেতে খেতে আমাদের মাথা ছিলে যায়। কিন্তু তারপরও তাদের মন গলেনি। এরপর তারা আমাদের লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। 

এরপর সন্ধ্যায় তারা আরেকটা ট্রলার আটক করে। সবাইকে তারা একটা ঘাটে নিয়ে যায়। কয়টা জাল পানিতে ফেলেছি জানতে চাইলে আমরা জানাই, ৪টা জাল। 

আমরা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যাই। ভয়ে কাঁদতে থাকি। ঘাটে আমাদের ১২ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের আনা খাবারটাও তারা খেয়ে ফেলে। জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের কেন আটক করা হয়েছে জানো? তোমরা আমাদের মাছ চুরি করছিলে। 

তাদের এই মিথ্যা কথার প্রতিবাদও করতে পারিনি। কারণ কোনো কথা বললেই তারা মারতে শুরু করে। এক সময় কান্নাও করতে পারছিলাম না। কারণ কান্না করলে আরও মারে।

এক সময় আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় অন্ধকার একটা পাহাড়ে। সেখানে নিয়ে আবারও মারধর করতে থাকে। সেই পাহাড়ে গিয়ে আমরা বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে দেখতে পাই। তারা সংখ্যায় ছিল ১৭ জন, পরবর্তী সময়ে ২ জনকে ক্রসফায়ার করা হয়। তাদের চাপে এক সময় আমরা বলতে বাধ্য হয়েছি যে, বর্ডার ক্রস করায় আমাদের ধরে আনা হয়েছে।

এক সময় তাদের কাছে আমরা অনুনয়-বিনয় করে বলতে থাকি, যেন আমাদের পরিবারের সঙ্গে একটু যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। 

কিন্তু তারা আমাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলে, তোমাদের সরকারের সঙ্গে আমাদের সরকারের যোগাযোগ হবে, তোমরা যোগাযোগ করতে পারবে না। তারা এই আশ্বাস দিয়ে চলে‌ যায়। তারা আমাদের পায়ে লোহার বেড়ি পরিয়ে রাখে, যেটা হয়তো খুনের আসামিকেও পরানো হয় না। 

আমরা বুঝতে পারছিলাম, তারা আমাদের ব্যবহার করে টাকা কামাচ্ছিল। ১ মাস ১৫ দিন পর আমাদের কোর্টে নেওয়া হয়। রাখা হয় একটা সেল ঘরে। আমরা অনুরোধ করি একটু পানি খাওয়ানোর জন্য। আমাদের বলা হয়, তোমাদের বাংলাদেশে গিয়ে পানি খাবা। কোর্টে গিয়ে পড়ি আরেক সমস্যায়। 

সেখানে জজ, উকিল সবকিছু আরাকান আর্মির। ওদের ভাষাও আমরা বুঝতে পারছিলাম না। আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয় বর্ডার ক্রস করা আমাদের অপরাধ কি না, আমরা স্বীকার করি যে আমাদের অপরাধ হয়েছে। 

তখন তারা জানায়, তোমাদের আবার ১৫ তারিখ জানানো হবে তোমাদের ছাড়া হবে কি না। এরপর আমাদের ১৭ তারিখ আবার আরেক জায়গায় নেওয়া হয়, কোর্টে নেওয়া হয়নি। 

সেখানে আমাদের জানানো হয়, আমাদের প্রত্যেকের ১০ বছর করে জেল দেওয়া হয়েছে। বলা হয়, যদি তোমাদের সরকার চায় তা হলেই তোমাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

আমিন বলেন, আমরা সংখ্যায় ছিলাম ১০৬ জন। এরপর আমাদের এমন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই বেশ কয়েকজন আটক ছিল। তাদের দেখে আমরা আঁতকে উঠি। কারণ খাবার না পেয়ে তাদের সবাই কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছে। জোর করে কামিয়ে দেওয়া হয়েছে মাথার চুল। আমাদের  ১০৬ জনকে দুটি রুমে রাখা হয়।

আমিন বলেন, পাহাড়ের ওখানে তবু আমাদের কোনোভাবে পেট ভরত। কিন্তু এই নতুন জায়গায় যে খাবার দেওয়া হতো তাতে পেট ভরত না। আমরা ক্ষুধার জ্বালায় ঘাস খেলেও আমাদের মারা হতো। আমাদের কেউ মারা গেলে তাকে কম্বলে প্যাঁচিয়ে বাউন্ডারির পেছনে ফেলে দিত। আর আশপাশের শেয়াল এসে খেয়ে যেত সেই মরদেহ। ভাগ্যে জুটত না দাফন, কাফন।

সেখানে পুরো শীত আমরা বার্মায় কাটিয়েছি। আমাদের শরীর ফুলে যেত শীতে। আমাদের এক কাপড় পরেই ৪ মাস কাটাতে হয়েছে। আমরা একটা করে কম্বল দিয়ে কোনোমতে দুজন ঘুমানোর চেষ্টা করতাম, তাও ঘুমাতে পারতাম না। 

তারা শরীরে মারত না, পাছায় মারত, চামড়া ছিলে যেত। ওষুধ দিত না। পানি দিয়ে আমরা ভাত নরম করে খেতে চাইলে তাও দিত না, বলত শক্তি বেড়ে যাবে তোমাদের, তোমরা তখন পালিয়ে যাবে। 

এরপর মিয়ানমারের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ আমাদের একটা তালিকা নেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারি ১৫ তারিখ ওদের তরফ থেকে আমাদের খোঁজ নেওয়া হয়, সেখানে বলা হয়, তোমাদের সরকার, বিজিবি তোমাদের চায় নাই, কালকে তোমাদের ছেড়ে দেব। সামনে যে রমজান, আমাদের সরকার চাইছে তোমরা যাতে তোমাদের পরিবারের সঙ্গে রমজান পালন করতে পারো, তাই তোমাদের আমরা ছেড়ে দিচ্ছি।

আরকান আর্মির তরফ থেকে আরও বলা হয়, এবার তোমাদের ছেড়ে দিচ্ছি, আর কখনো এই সীমান্তে এলে, পরেরবার ২২ বছরের জেল দেব।

জেলে সাড়ে তিন মাস আমরা ঘাস খেয়ে বেঁচে ছিলাম, ইঁদুর আমাদের খাবার খেয়ে গেছে, আমরা তখন ওরা খেয়ে যা বাকি ছিল সেটা কুড়িয়ে খেয়েছি।

তিনি বলেন, সেখানে (মিয়ানমারে) এখনও অনেকে বন্দি আছে। বাংলাদেশে আসার সময় তারা আমাদের অনুরোধ করে বলেছে, যেন তাদের কথাগুলো আমরা পৌঁছে দিই সবাইকে। আমাদের ৭৩ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। যে দিন আমাদের বাড়ি যাওয়ার কথা, সে দিন সকাল ৯টায় বিজিবির তরফ থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। 

আরাকান আর্মির তরফ থেকে বলা হয়, তোমাদের বিজিবিকে বলা হয়েছে সকাল ৯টার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ওনারা এখন ফোন ধরছে না। ১টা পর্যন্তও বিজিবির কোনো খবর নেই, তোমাদের বিজিবি যোগাযোগ করছে না। তোমাদের বিজিবি কোনো খোঁজ নিচ্ছে না।

অবশেষে বিজিবির তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় ওই দিনই। বাংলাদেশের মাটির জন্যও আমাদের মায়া লাগছিল, ট্রলার দেখে খুশিতে সবার চোখ ভিজে যাচ্ছিল। বারবার মনে হচ্ছিল, বাড়িতে যাব আজকে। ট্রলারে থাকতেই বাড়িতে ফোন দিয়ে জানলাম, আব্বু মারা গেছে। আমি শুনে ট্রলারেই অজ্ঞান হয়ে যাই। 

আমাদের যখন জিজ্ঞাসা করা হয় আমরা নির্যাতিত হইছি কি না,  আমরা বলতেও পারিনি যে আমাদের নির্যাতন করা হয়েছে। কারণ আরাকান আর্মি বলে দিয়েছে ওদের নিয়ে খারাপ কথা বললে তা হলে আমাদের যারা ওখানে আটকা পড়ে আছে, তাদের আরও নির্যাতন করা হবে।  

আমাদের শরীর খুব অসুস্থ ছিল, কিন্তু সরকারিভাবে বা প্রশাসনিকভাবে কোনো চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। আমাদের কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি। আমার নিজেরই এখন ৭০-৭৫ হাজার টাকা ঋণ। আমরা মাছও ধরতে পারি না, পর্যটনও নেই।

সেন্টমার্টিনের শিক্ষার্থী যুবায়ের ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে বলেন, আরাকান আর্মিরা অনেক জেলেকে আটক করে নিয়ে গেছে। এখানে এমনও অনেক পরিবার আছে, যেখানে ১০ জনের সংসারে উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষটিকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। 

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো যুদ্ধ চলছে না, কিন্তু আমাদের নিরপরাধ জনগণের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে কেন?

তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে সেন্টমার্টিনকে দেখতে যতটা সুন্দর লাগে, ভেতরের মানুষের জীবনটা ঠিক ততটাই অন্ধকার আর যন্ত্রণাময়। আমাদের অর্থনীতি আজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এমনিতেই আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তার ওপর হঠাৎ করে ট্যুরিজম (পর্যটন) বন্ধ করে দেওয়ায় দ্বীপের মানুষের উপার্জনের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।

আটক জেলে ও তাদের পরিবারের সহায়তা, বন্দিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্রিমিওনোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, চারিদিকে যুদ্ধাবস্থা ও চরম রাজনৈতিক সংকটের মাঝে আমরা বাংলাদেশিরা ক্ষমতার বলি হচ্ছি। বৈশ্বিক রাজনৈতিক জটিলতায় সরাসরি অংশ না নিয়েও আমরা ক্রাইম এগেইন্সট হিউম্যানিটির প্রশ্নে আমাদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনসহ রিলিভেন্ট সব লক্ষ্যের আলোকে আমাদের জলসীমান্তের সংকট মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া সেন্টমার্টিনের মতো দ্বীপে যেখানে সম্পূর্ণ নিজস্ব কালচার, জীবনযাপন ও বাস্তুতন্ত্র আছে শুরু থেকেই, সেখানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ট্যুরিজমের নামে ব্যাঙের ছাতার মতো সেটেলার বিজনেস গজিয়ে ওঠাটা দ্বীপের সামগ্রিক সিস্টেমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। 

বর্ডার সংকটের পাশাপাশি আমাদের দেশের ভেতরে নিজেদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং সরকারকে এসব সেনসিটিভ এলাকায় উন্মুক্ত কমার্শিয়াল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে কমিউনিটির নিজস্ব কালচারকে রক্ষা করে এমন পলিসি তৈরি করতে হবে।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্রিমিওনোলজি কালচারাল সোসাইটির (ডিইউসিসিএস) ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনথিয়া এস মাহি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ও সমুদ্রের তলদেশের উচ্চতা বাড়ছে। তাই কমছে মাছের প্রজনন। ফলে সেন্টমার্টিনের যে জেলের আগে ১০০ ফিট গভীরে যাত্রা করলেই মাছ ধরার টার্গেট পূরণ হতো, তাকে এখন ১০০০ ফিট দূরত্বে যেতে হচ্ছে। 

অর্থাৎ, সমুদ্রের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কবলে পড়ে হলেও মিয়ানমার সীমান্তে প্রবেশ করে ফেলার আশঙ্কা বাড়ছে, ভিনদেশি অরাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, তাদের সিকিউরিটি ইস্যু তৈরি হচ্ছে।

সেন্টমার্টিনবাসীর জীবন-জীবিকা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্সের (সিসিডি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শৈলী আকন্দ বলেন, জলসীমান্ত নিয়ে আমাদের সেভাবে কথা বলা হয় না,  অথচ আমাদের সমুদ্র সীমান্তের ৪ শতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে গত এক বছরে। 

এমনকি সেন্টমার্টিনের সাধারণ মানুষদের অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটছে, যা সেখানকার জননিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা চাই সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে জোরালো আলোচনা করা হোক। সরকারের এখানে একটি বড় কাজ- দ্বীপের জেলেদের ও সাধারণ মানুষের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সিসিডি সম্পৃক্ত শামসুল আরিফ ফাহিম বলেন, এই দ্বীপে প্রথাগতভাবে কৃষিকাজ করা ভৌগোলিক কারণেই অসম্ভব। প্রকৃতির এই সীমাবদ্ধতাই এখানকার অধিবাসীদের জীবিকার জন্য সম্পূর্ণভাবে গভীর সমুদ্রের মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য করেছে। 

কিন্তু বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে এই নাজুক জীববৈচিত্র্য আজ চরম হুমকির মুখে। অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই অপহরণগুলোকে আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে। এই মানুষদের ধরে নিয়ে মূলত দাসশ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেন্টমার্টিনে ক্ষমতার রাজনীতি চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরাকান আর্মির দ্বারা বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ প্রসঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং কোস্ট গার্ডের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন না ধরায় তাদের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

/এসএকে


  বিষয়:   মরা  মৃত্যু  কম্বল  মরদেহ  মায়ানমার  বিজিবি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: