বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশে পাইকারি পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১

2026-05-20T21:10:18+00:00
2026-05-20T21:10:18+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৯:১০ পিএম 
প্রতীকী ছবি
দেশে পাইকারি পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। পিডিবির এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় পাইকারি দাম দাঁড়াবে ৮ টাকা ২৪ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৫৪ পয়সা, যা বর্তমানে ইউনিট প্রতি ৭ টাকা ০৪ পয়সা রয়েছে। 

বুধবার (২০ মে) ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত এক পূর্বনির্ধারিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

একই দিনে বিদ্যুতের সঞ্চালন খরচ বৃদ্ধির জন্য পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর প্রস্তাবের ওপরও পৃথক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পিজিসিবি তাদের বর্তমান গড় সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে শূন্য দশমিক ৩০৯৬ টাকা থেকে ১৮ পয়সা বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৪৯৫৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কমিশনের কারিগরি কমিটি প্রতি ইউনিটে ১৩ পয়সা দাম বাড়িয়ে সঞ্চালন চার্জ শূন্য দশমিক ৪৪৮১ টাকা করার সুপারিশ করেছে। শুনানিতে পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম পাইকারি বিদ্যুতে ৩ শতাংশ সিস্টেম লস বিবেচনা করা এবং বিদ্যমান ৪ শতাংশ উৎসে কর মওকুফ করে ভর্তুকির চাপ কমানোর দাবি জানান।

অন্য দিকে বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তা, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের গণভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক অর্থনীতি এক ভয়াবহ ও গভীর সংকটের মুখে পড়বে। এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলে বিইআরসি জনগণের কাছে ‘গণশত্রু’ হিসেবে পরিগণিত হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন। 

বিদ্যুৎ খাতে লুণ্ঠন ও দুর্নীতির দায় ভোক্তাদের ওপর চাপাতে নামমাত্র এই গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ এনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম এ দিনের শুনানি বর্জন করেন।

ক্যাবের পক্ষে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান শুনানিতে অংশ নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হলে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে। অতীতে আইনের দোহাই দিয়ে সবচেয়ে বেশি বেআইনি কাজ করা হয়েছে এবং কমিশন তাতে সহায়তা করেছে। এখনো কমিশনের সতর্ক হওয়ার সময় আছে, বিইআরসিকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও বিইআরসিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, বর্তমানে দেশের রপ্তানি খাত এমনিতেই নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে। 

এর মধ্যে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক শিল্প খাত আন্তর্জাতিক বাজারে তার দীর্ঘদিনের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা হারাবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স পিডিবির এই সুপারিশকে জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে এই গণশুনানি অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানান।

মূল্যবৃদ্ধির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে পিডিবির প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্যান্য দামি জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হয়েছে। একই সাথে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ করা গ্যাসের নিজস্ব দাম, এইচএফওর মূল্য এবং আমদানি করা কয়লার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে দেশীয় টাকার বড় অবমূল্যায়ন উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তাদের আয়-ব্যয়ের মোট ঘাটতি দাঁড়াবে ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং এই হিসাবে পাইকারি বিদ্যুতের প্রকৃত সরবরাহ মূল্য হওয়া উচিত ১৩ টাকা ০৯ পয়সা।

পিডিবির প্রস্তাবে আরও বলা হয়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার রাজস্ব চাহিদা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ঘাটতি শূন্যে নামাতে প্রতি ইউনিটের সরবরাহ ব্যয় ১২ দশমিক ৯১ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে আপৎকালীন সময়ে ‘ভারিত গড় পাইকারি মূল্য’ ইউনিট প্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা বাড়ালে ঘাটতি ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ১ দশমিক ৫০ টাকা বাড়ালে ঘাটতি ১৬ হাজার ৬২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা হ্রাস পাবে। অবশ্য বিইআরসির কারিগরি কমিটির মূল্যায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির নিট রাজস্ব চাহিদা ইউনিট প্রতি ১২ টাকা ৫১ পয়সা এবং বর্তমান দাম অনুযায়ী প্রকৃত ঘাটতি ৫ টাকা ৪৭ পয়সা।

আয়-ব্যয়ের এই বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বিপিডিবি আরও কিছু বিকল্প কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন শহরকেন্দ্রিক মুনাফাকারী ২১টি সমিতির জন্য ডেসকো ও ডিপিডিসির সমতুল্য উচ্চতর পৃথক পাইকারি মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ, ডেসকো ও ডিপিডিসির আওতাধীন ১৩২ কেভির ঊর্ধ্বের বৃহৎ শিল্প গ্রাহকদের সরাসরি পিডিবির নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে এনে সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

পিডিবির দাবি, এই উচ্চ ভোল্টেজের গ্রাহকদের সরাসরি নিজেদের অধীনে আনলে বছরে সরকারের হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ হ্রাস পাবে। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: