বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। একই সময়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও রয়েছে দূষণের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, রোববার সকালেও দুই দক্ষিণ এশীয় মহানগরীর বাতাস ছিল উদ্বেগজনক মাত্রায় দূষিত।
এদিন সকাল সোয়া ৭টার দিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ১৭৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। এই মাত্রার দূষণ সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কঙ্গোর কিনশাসা, আর এরপর রয়েছে চিলির সান্তিয়াগো ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।
অন্যদিকে, ঢাকার AQI রেকর্ড করা হয়েছে ১০৮। সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে দিল্লির চেয়ে কম হলেও এটি সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই বায়ুমান স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকাল ঘনিয়ে এলেও রাজধানীর বাতাসে প্রত্যাশিত উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। নির্মাণকাজের ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা এবং অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাকে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, AQI ৫০-এর নিচে থাকলে বাতাস ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সহনীয় হলেও ১০১ ছাড়ালেই তা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। আর ১৫১-এর বেশি হলে তা সবার স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ ফুসফুসের জটিলতা, হাঁপানি, হৃদরোগ এবং শিশুদের শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জরুরি প্রয়োজন কার্যকর পরিবেশনীতি বাস্তবায়ন এবং নগর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ।
এএডি/