জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলের ১৯টি জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় আগামী জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ।
রোববার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) ও 'লিডার্স' আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুলের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।
সভায় শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয় বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ, যা ক্রমান্বয়ে কমে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫.২১ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ওপর প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট নিরসনে ২১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার সুষম উন্নয়নের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি করা।
একই সাথে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকাগুলোকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানান তারা। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
সময়ের আলো/জেডি