দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ব্যবসায়ী, খামারি ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
রোববার (২৪ মে) রাজধানীর দিয়াবাড়ী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, জাল টাকা শনাক্তে হাটে বিশেষ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্রেতাদের অর্থ নিরাপদে জমা রাখা এবং প্রয়োজনে নতুন হিসাব খোলার জন্য হাটে ব্যাংকিং সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। পশু হারিয়ে যাওয়া বা চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বড় হাটগুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হারানো পশু উদ্ধারে মাইকিং ও তদারকির পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত পশু উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া সীমান্তপথে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির পশুর মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো মূলত পশুর স্বাস্থ্য ও আকৃতি বিবেচনায় দরদামের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। তবে ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ওজনভিত্তিক বা ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে পশু বিক্রির সংস্কৃতি গড়ে উঠলে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ হবে।
বাজারে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতির কারণে কোনো কৃত্রিম সিন্ডিকেট তৈরি করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারের প্রতিযোগিতা ও চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতেই পশুর দাম নির্ধারিত হয়। পশুর হাটে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই তৎপরতা ঈদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জেডি