নির্বিঘ্নে যেন মানুষ পশু কিনে বাসায় ফিরতে পারে, সে বিষয়ে ডিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
সোমবার (২৫ মে) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে গাবতলি গবাদি পশুর হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মোট ১১টি পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। এর মধ্যে গাবতলির পশুর হাটকে স্থায়ী পশুর হাট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও এক বছরের জন্য হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারপ্রাইজ ভিজিটে এসে হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যান চলাচল এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা জাল নোট শনাক্তকরণসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের অর্থ লেনদেনে সহযোগিতা করছেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গরু মূল সড়কে দাঁড়িয়ে যানজট সৃষ্টি করছে না। যানবাহনও সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। হাটে ডিএনসিসির ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন। হাটে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শর্তগুলো ইজারাদাররা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কিনা, তা মনিটরিং করতে ঈদের দিন পর্যন্ত আমাদের ভিজিট অব্যাহত থাকবে।
তিনি নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নির্বিঘ্নে যেন মানুষ পশু কিনে বাসায় ফিরতে পারে, সে বিষয়ে ডিএমপি পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সার্বিক সহযোগিতা করবে।
এছাড়া, সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শনে যান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে নির্ধারিত সীমানার বাইরে প্রধান সড়কে কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি। তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখান থেকে সব ধরনের কোরবানির পশু সরিয়ে দেন এবং রাস্তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কে ডাইভারশন দিয়ে পশু বেঁধে রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেখে প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোনোভাবেই যেন রাস্তায় পশুর হাট বিস্তৃত না হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন।
এসময় সংশ্লিষ্ট পশুর হাটের ইজারাদারকে তাৎক্ষণিক ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন প্রশাসক। পরে ইজারাদারকে সড়কে হাট না বসানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অমান্য করা হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করারও নির্দেশ দেন তিনি।
ইজারাদারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে বৃষ্টির কারণে কিছু পশুর মালিক সাময়িক সময়ের জন্য মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু রেখেছিলেন। তারা ডিএনসিসির নির্দেশনা মেনে চলছেন এবং রাস্তায় যেন কোনোভাবেই পশু না রাখা হয় সে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
পশুর হাট পরিদর্শন কার্যক্রমে ডিএনসিসি প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান প্রমুখ।
/ইউএমএইচ