২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর হাতাহাতি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন রাশেদ খান।
গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই নেতার আরও ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে যখন ডিবি কার্যালয়ে মারধর করা হতো, হাসনাত আব্দুল্লাহ আর সারজিস আলম তখন সেখানে বসে জুস খেতেন।
সোমবার (২৫ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি অডিও বার্তা ফাঁস করে তিনি এই তথ্য জানান।
রাশেদ খানের পোস্ট করা ওই অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রত্যেকটা মিটিংয়ে যদি কোনো ভয়েস সবসময় রেইজ ছিল, যে মিছিল কখনো হলের ভেতরে যাবে না এবং মিছিল কখনো ভাঙবে না, সেটা হচ্ছে হাসনাত আব্দুল্লাহ। আমি কখনো কনফ্লিক্টে বা কনফ্রন্টেশনে যেতে চাইনি। আমাদের দাবি একটাই ছিল, কোটা সংস্কার। আমি সেটার মধ্যেই স্থির থাকতে চেয়েছি। এখন সমন্বয়কদের মধ্যে কেউ যদি আগ বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, সেটার দায়ভার কেন আমি নেব? এটা নিয়ে হাতাহাতি বাকি ছিল, হাতাহাতি ছাড়া যত ধরনের যা কিছু আছে, সবগুলোই হয়েছে।’ এই অডিওর সূত্র ধরে রাশেদ খান বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ যখন বেশি কথা বলবেন, তখন এই অডিওটি যেন বাজানো হয়।
বিএনপির টিকিটে ঝিনাইদহ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া রাশেদ খান বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই অডিওটা শতভাগ হাসনাত আব্দুল্লাহর। আমার কাছে আরও অনেক কিছুই আছে, সেগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ করা হবে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় হাসনাত ও সারজিসের বড় ধরনের দুর্বলতা থাকার কারণেই তারা পরবর্তীতে নিজেদের ইমেজ বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আওয়ামী লীগের পক্ষেরই লোক ছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা শপথ নেওয়ার আগে ৭ আগস্ট রাত ২টার দিকে বলেছিলেন যে হাসনাত-সারজিস জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছেন। আসিফ মাহমুদের লেখা বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে এই বেইমানির ইতিহাস আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ৩৬ দিনের সেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশও আসে। বর্তমানে হাসনাত আব্দুল্লাহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
সময়ের আলো/টিএইচ