রাজধানী ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বসা কোরবানির পশুরহাটগুলোতে কাদামাখা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৭টি স্থানে বসেছে গরুর হাট। হাটগুলোয় বৃষ্টির পানি, গরুর মূত্র ও গোবরে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গরুগুলোকেও। তবে ভোগান্তি হলেও জমজমাট হয়ে উঠেছে গরুর হাট। অবশ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমে গরুগুলো হাপিয়ে উঠেছিল। তবে গত রোববার ও সোমবার মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছর রাজধানী ঢাকায় প্রায় ১২ লাখ গবাদিপশু জবাই করা হবে। ফলে ঈদের তৃতীয় দিনে রাজধানী ঢাকার ৫৪ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
রাজধানীর বিভিন্ন গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরের বেশির ভাগ অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও এতো পরিমাণ পানি জমেছে, গরুর দাঁড়ানোর সুযোগটুকুও নেই। পানির মধ্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে গরুগুলো। কোথাও আবার পশুগুলোকে কাদার মধ্যেই শুয়ে থাকতে হচ্ছে। ব্যাবসায়ী ও খামারীরা খড় ও বালু ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে জমজমাট হয়ে উঠতে শুরু করেছে বেচাকেনা। হাটে গরুর সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট নন অনেক ক্রেতা। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় এসব গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হাঁকা হচ্ছে বলে কেউ বলছেন ক্রেতারা। বেশিরভাগ মাঝারি গরু এক লাখ ১০ হাজার থেকে এক লাখ ৩০, ৪০ ও ৫০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এখনও অনেক ক্রেতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। বেশিরভাগ মানুষ কয়েকটি হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, কুষ্টিয়ার খামার ও কৃষিভিত্তিক পালন পদ্ধতির কারণে এ এলাকার গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দাম ও মান নিয়ে চলছে দরকষাকষি। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় হাটে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। ঈদের আগের দুই-তিন দিনে বেচাকেনা আরও বাড়বে। রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে ছোট ও মাঝারি গরুর বিক্রি বেশি হচ্ছে। কোরবানির গরু কিনতে আসা জহির বলেন, হাটে গরু বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। আরো দুদিন সময় আছে, দেখি এরপর কিনবো।
একই হাট থেকে গরু কিনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মো. আব্দুল দিদার। তিনি বলেন, সাধ্যের মধ্যেই কোরবানির গরু কিনতে পেরে সন্তুষ্ট।
গরু কিনতে আসা শামীম জামান বলেন, মাঝারি গরুর দরদাম বেশি চলছে। দাম একটু বেশিই মনে হলো। গরু এখনও আসছে, তাই মঙ্গলবার পর্যন্ত দেখে তারপর কেনার চিন্তা করছি।
শাহজাহানপুর পশুর হাটেও গরু দেখতে আসা জেসমিন বলেন, মাঝারি ধরনের গরুর দাম এখন এক লাখ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। গত বছর একই ধরনের গরু এক লাখ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় পাওয়া গেছে। আর একটু ছোট সাইজের গরুগুলোর দামও এক লাখ ৪১ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় উঠেছে।
রাজধানীর শাহজানপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী হজরত আলী বলেন, আমি ২০ টি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। এরমধ্যে ৮টি বিক্রি হলেও এখনো ১২টি গরু বিক্রি করতে পারিনি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে গরুগুলো নিয়ে বিপদে আছি। হাটের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। গরুগুলোকে পানির মধ্যে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তবে ক্রেতারা আসছেন। দরদাম করছেন। আশা করছি ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারবো।
কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারী শুভ বলেন, ভাই গরু নিয়ে খুব ঝামেলায় আছি। আমি ১৫টি গরু নিয়ে আসছি। এই গরুগুলো নিজের খামারে লালন-পালন করেছি। কিন্তু হাটে আসার দুই দিনে ৩টি বিক্রি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২টি গরুও বিক্রি হয়নি। এখন বৃষ্টি গরু রাখার জায়গা তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে হাটে পানি আর কাদা। এরপরেও আশা করছি বিক্রি করতে পারবো। দরদাম করছে। দামও ভালো বলছে। তবে আরেকটু সময় নিচ্ছি। হয়তো ভালো দাম পাবো। বৃষ্টির কমলেও হাট জমে উঠবে।
শেষ মুহূর্তে এসে জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ট্রাক ভর্তি পশু আনা হয়েছে এই হাটে। বাজারে বর্তমানে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, যেখানে চার মণ ওজনের গরু বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা ভালো মুনাফার আশা করলেও অনেক ক্রেতাই পছন্দের রঙের সঙ্গে বাজেটের মিল না পেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বাজার যাচাই করছেন।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থেকে সাতটি গরু নিয়ে আসা খামারি মো. আব্দুর রোশন ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন মণ ওজনের একটি গরু ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে নিজ খামারে নিবিড় যত্নে তিনি গরুগুলো লালন-পালন করেছেন। গোখাদ্যের দাম অনেক বাড়লেও হাটে ভালো দামের আশায় আছেন তিনি। তবে ক্রেতারা গরু দেখছেন এবং দরদাম করছেন ঠিকই কিন্তু হাটে এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বেচাকেনা শুরু হয়নি।
প্রায় ৫ মণ ওজনের সাদা-কালো রঙের একটি গরু কিনেছেন মোহাম্মদ হানিফ। তিনি বলেন, সকাল থেকে হাটে ঘুরে দেখেছি, দাম কেউ ছাড়ছে না। অনেক ঘুরে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিয়ে একটা গরু কিনেছি।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গরু কেনার জন্য হাটে এসেছেন রুহুল আমিন ও তার দুই সন্তান। ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনবেন তারা। সকাল ১০টায় হাটে এলেও এখনো দামে মেলেনি বলে জানান রুহুল আমিন।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছর রাজধানী ঢাকায় প্রায় ১২ লাখ গবাদিপশু জবাই করা হয়। ফলে ঈদের তৃতীয় দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানী ঢাকার ৫৪ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করেছে। এই বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির প্রায় ১৬ হাজার ও ডিএসসিসির ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী কাজ করবেন। একই সঙ্গে পশু জবাইয়ের স্থান প্রস্তুত ও বর্জ্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ল্যান্ডফিল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থা দুটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছর রাজধানী ঢাকায় প্রায় ১২ লাখ গবাদিপশু জবাই করা হয়। এসব পশু বর্জ্যের মধ্যে ২১ হাজার টন আসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকা থেকে। এবারও একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিএনসিসি। এ জন্য প্রায় ১৬ হাজার কর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএনসিসির এসব কর্মী ঈদের তিন দিনে মাঠপর্যায়ে বর্জ্য অপসারণে কাজ নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির থাকছে কেন্দ্রীয় ও জোনভিত্তিক সমন্বয় বা তদারক সেল।
ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, গত বছর ঈদুল আজহায় মোট ২০ হাজার ৮৮৯ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়। ওই বছর ঈদের দিন অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬১৬ টন, পরদিন ৭ হাজার ৩৫৩ টন এবং তৃতীয় দিনে ২ হাজার ৯২২ টন। এ বছরও প্রায় একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংস্থার উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ডিএনসিসি এলাকার কোরবানির পশু বর্জ্য অপসারণ কাজে সংস্থার নিজস্ব সাড়ে ৬ হাজার বর্জ্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকবেন। পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত সাড়ে ৪ হাজার কর্মী সরাসরি মাঠে কাজ করবেন। এছাড়া রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০ জন করে মোট সাড়ে ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি ও মনিটরিং করবেন। সব মিলিয়ে ঈদের দিন থেকে বর্জ্য অপসারণ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রায় ১৬ হাজার জনবল নিয়োজিত থাকবে। ঈদের দিন দুপুরে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি। পশুর রক্ত অপসারণের পর জীবাণুনাশকের অংশ হিসেবে ছিটানোর জন্য ২৫ কেজির ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহারের জন্য ভাড়ায় সংগৃহীত ৪০৫ টি, ডিএনসিসির নিজস্ব ২৬১টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৬ টিসহ মোট ৭৫২টি পরিবহন যান মাঠে থাকবে। ট্রাক, ডাম্পার, পে-লোডার, পানির গাড়িসহ প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ৫৪টি ওয়ার্ডে এক হাজার মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সঠিকভাবে জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়। এ ছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে খুতবায় সচেতনতা বার্তা প্রচার, র্যালি, টেলিভিশন-রেডিও-পত্রিকা ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পশুর হাটের বর্জ্য ও কোরবানি করা পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং রাস্তা ধোয়ার জন্য ১ হাজার ৫৪৬টি বেলচা, ১ হাজার ২৮৪টি টুকরি, ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার (২৫ কেজির বস্তা), ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল (১ লিটার ক্যান), ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন (১ লিটার ক্যান) এবং ১৬ লাখ ৩০ হাজার পিস বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যাগ বিতরণ করা হবে। ৪৩টি পে-লোডার, ২টি টায়ার ডোজার, ৯টি বেকহো-লোডার, ৬টি স্কিড-লোডার, ৭টি চেইন ডোজার, ৯টি চেইন এক্সকাভেটর, ২টি কম্পেকশন ডোজার, ৬টি রোড সুইপার, ২টি জেট অ্যান্ড সাকার, ৫৮টি কম্পেক্টর ট্রাক, ৩২টি কনটেইনার ক্যারিয়ার, ৫টি আর্মরোল ক্যারিয়ার, ২২০টি ডাম্প ট্রাক, ১০টি খোলা ট্রাক, ৩২৯টি পিকআপ, ১০টি পানির গাড়ি এবং ২টি স্প্রে-ক্যাননসহ মোট ৭৫২টি যান যন্ত্রপাতি বর্জ্য অপসারণ কাজে ব্যবহার করা হবে।
কোরবানির তিন দিন আগে থেকেই মনিটরিং জোরদারে ১০টি জোনে ১০টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোরবানির এক দিন আগে পশু জবাইয়ের স্থান প্রস্তুত ও বর্জ্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ল্যান্ডফিল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও কোরবানির প্রতিটি ধাপকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে একাধিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্যমুক্ত শহর উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
ঈদের দিন দুপুর দেড়টায় কলাবাগানে বর্জ্যের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে কোরবানির বর্জ্য পরিবহন শুরু করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডিএসসিসি। সংস্থাটি ৮ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ করা হবে। সংস্থাটি তিন দিনে প্রায় ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনে প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৫ টন, দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১১ হাজার ৭৭৬ টন এবং তৃতীয় দিনে প্রায় ৬ হাজার ২৩১ টন বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন জনবল নিয়োজিত থাকবে। ইতোমধ্যে সংস্থাটি ১ লাখ ৪০ হাজার পচনশীল ব্যাগ, ৪০ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন বিতরণ করা হচ্ছে।
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশসনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নগরবাসীকে কোরবানির পশুবর্জ্য নালা-নর্দমায় না ফেলার অনুরোধ করছি। ঈদের তিন দিনে প্রায় ৩৪ হাজার টন বর্জ্য অপসারনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনোভাবেই কোরবানির বর্জ্য কোনো ড্রেনের মধ্যে ফেলবেন না। দেখেন বৃষ্টি যে কোনো সময় হতে পারে, কোরবানির আবর্জনা যদি আপনি ড্রেনের মধ্যে ফেলেন, তাহলে পানি আটকে যাবে, পানি রাস্তায় চলে আসবে। তখন আপনারাই বলবেন যে সিটি করপোরেশন পরিষ্কার করেনি। আমরা ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছি এবং রাস্তাগুলোকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছি। আপনারা যদি এই পরিষ্কারটা রাখার চেষ্টা করেন, তাহলেই কিন্তু ঢাকা নগরীটা সুন্দর থাকবে।
/ইউএমএইচ