ভাইরাল গানের ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মাদানী

সময়ের আলো ডেস্ক

সোশ্যাল মিডিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গানের ভিডিও নিয়ে আলোচনার মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ভিডিওটি

2026-05-26T03:12:10+00:00
2026-05-26T03:12:10+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়া
ভাইরাল গানের ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মাদানী
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গানের ভিডিও নিয়ে আলোচনার মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ভিডিওটি সম্পাদিত বা কৃত্রিম নয় বলে দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, এটি প্রায় আড়াই বছর আগে তার স্ত্রীকে শোনানো একটি গানের ভিডিও। পুরো ঘটনাকে ঘিরে নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তিনি পোস্ট দিয়ে জানান, সিলেটের একটি রিসোর্টে স্ত্রীকে গান শোনানোর সময় পেছন থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে বসে আমার স্ত্রীকে একটা সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বেইমান, সাকালাইন শাফি পেছন থেকে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি দেখে ফেলি, তখন সে বলে, ‘ভাই, এই ভিডিও আমি কখনোই ছাড়ব না।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নৌকায় ঘুরতে গিয়ে করা আরেকটি ভিডিওও ওই ব্যক্তি ধারণ করেছিলেন। পরে ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধ করলে তিনি কসম করে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে সেগুলো কখনও প্রকাশ করবেন না।

মাদানী লিখেন, আরেকটা ভিডিও তার কাছে ছিল যেটা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরতে গিয়ে মজা করছিলাম, সেটাও সে ভিডিও করে ফেলে এবং আমি যখন বলি ভাই ভিডিও ডিলিট করুন, তখন সে কসম খায়, বলে ভাই আমি কখনও ভিডিও কোথাও প্রচার করব না!

ঘটনার পর থেকে সিলেটে কোনো প্রোগ্রামে না যাওয়ার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, কিন্তু একটা কথাও সে রাখেনি, সেই বেইমানির প্রতি কষ্ট পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় প্রোগ্রামে যাই না। অনেক বন্ধু মুহিব্বিন ফোন করে দাওয়াত দেয়, সবাইকে না করে দিই; কিন্তু কাউকে বিষয়টা কখনও খুলে বলিনি!

ভিডিওটি ঘিরে ট্রল ও সমালোচনার বিষয়েও প্রতিক্রিয়া জানান এই ইসলামি বক্তা। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক ও কিছু হিংসুক ব্যক্তি তাকে নিয়ে উপহাস করছেন এবং এতে তিনি ভেঙে পড়বেন বলে ভাবছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, এখন সেই বিষয়টি নিয়েই আওয়ামী লীগের লোকেরা নতুন করে মজা নিচ্ছে। সঙ্গে কিছু স্বজাতীয় গাদ্দার হিংসুকগুলোও নিচ্ছে, নিতে থাক। পাগলের সুখ মনে মনে- কাগজ উড়ায়, টাকা গোনে। তারা মনে করে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কিংবা যেকোনো দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব।

একই পোস্টে তিনি অতীতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, অথচ হাসিনা আমাকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নির্যাতন করেছিল, কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি!

তবে এসবের পরও তিনি থেমে যাননি বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, কিন্তু এরা ব্যর্থ। আমি থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গলীগকে একটা পরামর্শ দিচ্ছি- আমাকে নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন!

পোস্টের শেষাংশে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে লিখেন, আমি আমার আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলাই আমার লক্ষ্য। আমাকে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। আমি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি। আমার মানসিক দৃঢ়তা কতটুকু, সেটা আমার বিরোধীরাও জানে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ- সবাই ভালো হয়ে যান!

উল্লেখ্য, এর আগেও ‘গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত’ মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন এই তরুণ বক্তা।

আরবিএন 


  বিষয়:   ইসলামি বক্তা  রফিকুল ইসলাম মাদানী 


Loading...
Loading...
সোশ্যাল মিডিয়া- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: