ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সামরিক অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের 'পদ্ধতিগত হামলা' চালানোর হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। একই সাথে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের অনতিবিলম্বে শহর ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৫ মে) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। এর ঠিক একদিন আগেই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিয়েভের ওপর অন্যতম ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় বাহিনীর চালানো 'সন্ত্রাসী হামলার' পাল্টা জবাব হিসেবেই কিয়েভে এই নতুন অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।
মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহকারী স্থাপনা এবং যুদ্ধ পরিচালনার মূল কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে এখন থেকে নিয়মিত ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালাবে রুশ সশস্ত্র বাহিনী।
এদিকে রাশিয়ার এই হুমকিকে 'ব্ল্যাকমেল' হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য আন্তর্জাতিক মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রুশ চাপের মুখে কোনোভাবেই নতি স্বীকার করা যাবে না এবং ইউক্রেন তার অংশীদারদের সাথে এই বিষয়ে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
কিয়েভে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি কাতারিনা ম্যাথেরনোভাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়া ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে ইউক্রেনকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়; তবে ইইউ কিয়েভ ছাড়বে না এবং ইউক্রেনের পাশেই থাকবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (২৪ মে) কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ওয়ান্টেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। ওই হামলায় রাশিয়া তাদের অত্যাধুনিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন 'ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র' ব্যবহার করেছে, যা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে মাত্র তৃতীয়বারের মতো ব্যবহার করা হলো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রোববারের (২৪ মে) ওই হামলায় কিয়েভের প্রায় ৩০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনা নিয়ে নির্মিত একটি নতুন জাদুঘরও রয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) হামলার শিকার লুকিয়ানিভকা এলাকায় বিশ্বের প্রায় ৭০টিরও বেশি দেশের কূটনীতিকরা একত্রিত হয়ে হতাহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
অন্যদিকে, দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলেও পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বেড়েছে। রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যার ফলে সেখানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এছাড়া রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় আরও সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি ইউক্রেনের খেরসন, খারকিভ, ওডেসা ও দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও রুশ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যস্থতার চেষ্টা এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারেনি।
সময়ের আলো/জেডি