ঈদুল আজহার দিনেই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)।
শুক্রবার (২৯ মে) কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নিজেই মাঠে নেমে কার্যক্রম তদারকি করেন। শুধু অফিসিয়াল পর্যবেক্ষণ নয়, তিনি বর্জ্যবাহী গাড়িতে চড়েও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
নাসিক সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৬০০ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়। নগরীর তিনটি অঞ্চলে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এই বিশাল অভিযানে ব্যবহৃত হয় প্রায় ৮০টি ট্রাক, ভেকু ও বিপুলসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। ঈদের দিনে যেখানে সাধারণত বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা থাকে, সেখানে দ্রুত কার্যক্রমের কারণে নগরজুড়ে স্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকে।
আরও পড়ুন
চাষাঢ়া, দেওভোগ, খানপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। কোথাও ট্রাকে বর্জ্য পরিবহন, আবার কোথাও যান্ত্রিকভাবে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলে। পুরো কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে থেকে সরাসরি তদারকি করেন প্রশাসক নিজেই।
প্রশাসকের এমন উপস্থিতি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে সরাসরি কাজে অংশ নিতে দেখে কর্মীদের দায়িত্ববোধ আরও বেড়েছে।
রাতে মুঠোফোনে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর গড়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ঈদের সময় নগরবাসীর ভোগান্তি কমানো এবং পরিবেশ রক্ষা করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে।
নগরবাসীও নাসিকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগের তুলনায় এবার বর্জ্য অপসারণ অনেক দ্রুত হয়েছে, ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের সমস্যা প্রায় হয়নি।
এএডি/