বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফিরছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর সেই প্রত্যাবর্তনের দল ঘোষণায় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন দুই নতুন ডিফেন্ডার অলওয়েথু মাখানিয়া ও ব্র্যাডলি ক্রস। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ হুগো ব্রুস।
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘোষিত দলে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে দেশটির দুই সফল ক্লাব মামেলোদি সানডাউনস ও অরল্যান্ডো পাইরেটসের ফুটবলাররা। দুই ক্লাব থেকেই আটজন করে খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা সানডাউনস এবং দক্ষিণ আফ্রিকান প্রিমিয়ারশিপ চ্যাম্পিয়ন অরল্যান্ডো পাইরেটসের আধিপত্যই ফুটে উঠেছে স্কোয়াডে।
তবে দল ঘোষণায় বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে গোলরক্ষক ব্র্যান্ডন পিটারসেনের বাদ পড়া। কাইজার চিফসের এই গোলরক্ষক চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও শেষ পর্যন্ত জায়গা হয়নি বিশ্বকাপ দলে। অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের কারণে সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচ থেকেও ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি।
প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া ২২ বছর বয়সী অলওয়েথু মাখানিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলছেন। অন্যদিকে ব্র্যাডলি ক্রস খেলেন কাইজার চিফসে। একসময় নিউক্যাসল ইউনাইটেডের একাডেমিতেও ছিলেন এই লেফট-ব্যাক। যদিও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের কেউই খেলেননি, তবুও রক্ষণভাগে গভীরতা বাড়াতে এই দুই নতুন মুখের ওপর আস্থা রেখেছেন কোচ।
আরও পড়ুন
দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেবেন ইংল্যান্ডের ক্লাব বার্নলির স্ট্রাইকার লাইল ফস্টার। পাশাপাশি ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানেকেও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বিবেচনা করছেন কোচ ব্রুস। তার অভিজ্ঞতা ও বল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দলের জন্য বড় সম্পদ বলে মনে করা হচ্ছে।
২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ১৯ জন খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগে। এছাড়া ইউরোপভিত্তিক পাঁচজন ও যুক্তরাষ্ট্রে খেলা দুজন ফুটবলার রয়েছেন দলে।
আগামী ১১ জুন সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ‘বাফানা বাফানা’। গ্রুপ ‘এ’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। তবে প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়েছিল আফ্রিকার এই দলটি। এবার নতুন প্রজন্মের দল নিয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দল-গোলরক্ষক : সিফো চেইনে (অরল্যান্ডো পাইরেটস), রিকার্ডো গস (সিওয়েলেলে), রনওয়েন উইলিয়ামস (মামেলোদি সানডাউনস);
ডিফেন্ডার : অব্রি মোদিবা, খুলিসো মুদাউ, খুলুমানি এনদামানে (সবাই সানডাউনসের), কামোগেলো সেবেলেবেলে, এনকোসিনাথি সিবিসি (দুজনই পাইরেটস), ব্র্যাডলি ক্রস (কাইজার চিফস), সামুকেলে কাবিনি (মোলদে/নরওয়ে), অলওয়েথু মাখানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন/যুক্তরাষ্ট্র), থাবাং মাতুলুদি (পোলোকওয়ানে সিটি), এমবেকেজেলি এমবোকাজি (শিকাগো ফায়ার/যুক্তরাষ্ট্র), ইমে ওকন (হ্যানোভার/জার্মানি);
মিডফিল্ডার : অসউইন অ্যাপোলিস, থালেন্তে এমবাথা, রেলেবোহিলে মোফোকেং (সবাই পাইরেটস), জেডেন অ্যাডামস, তেবোহো মোকোয়েনা, থেম্বা জোয়ানে (সবাই সানডাউনস), স্পেহেফেলো সিথোলে (তোনদেলা/পর্তুগাল);
ফরোয়ার্ড : এভিডেন্স মাকগোপা, ছেপাং মোরেমি (দুজনই পাইরেটস), লাইল ফস্টার (বার্নলি/ইংল্যান্ড), থাপেলো মাসেকো (এইইএল লিমাসল/সাইপ্রাস), ইকরাম রেইনার্স (সানডাউনস)।
এএডি/