ঈদুল আজহার ছুটিতে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসা বিনোদনপ্রেমীদের মাঝে অন্যরকম আলোড়ন তৈরি করেছে আলোচিত অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় হওয়া এই বিরল প্রাণীটিকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ শেডের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ— সব বয়সী মানুষের প্রধান কৌতূহল এখন এই সাদা মহিষটিকে ঘিরে। চিড়িয়াখানায় ঢুকেই অনেকে অন্য সব প্রাণীর আগে খোঁজ নিচ্ছেন এর অবস্থান সম্পর্কে। কেউ তুলছেন সেলফি, কেউবা করছেন ভিডিও। প্রাণীটির গোলাপি-সাদা চামড়া, চোখের গড়ন আর মাথার ঢেউখেলানো লোমের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবয়বের মিল নিয়ে দর্শনার্থীদের অনেককেই রসাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
দর্শনার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মহিষটিকে নিয়ে ব্যাপক চর্চা হওয়ায় তারা এটি সরাসরি দেখার জন্য চিড়িয়াখানায় ছুটে এসেছেন। ব্যতিক্রমী রঙ ও ভিন্নধর্মী গড়নের কারণে প্রাণীটি সহজেই সবার চোখ কাড়ছে।
চিড়িয়াখানা প্রশাসন জানিয়েছে, মহিষটিকে কেবল প্রদর্শনী নয়, বরং বিরল অ্যালবিনো জাতের প্রাণী হিসেবে সংরক্ষণ ও গবেষণার উদ্দেশ্যে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীর সুরক্ষায় নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দেখার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘অ্যালবিনিজম মূলত একটি জিনগত বৈশিষ্ট্য। এর কারণে প্রাণীর শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থ বা মেলানিনের ঘাটতি তৈরি হয়। এ ধরনের বিরল প্রাণী গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় এমনিতেই মানুষের ঢল নামে, তাই কেবল এই মহিষের জন্যই ভিড় বেড়েছে কি না— তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা মুশকিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, বিরল এই অ্যালবিনো মহিষটি আগে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে লালন-পালন করা হচ্ছিল। কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির পর বিষয়টি নজরে এলে এটিকে সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেয় সরকার। পরবর্তীতে পুলিশি পাহারায় মহিষটিকে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় এনে অবমুক্ত করা হয়।
সময়ের আলো/জেডি