দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় উপস্থিত স্বজন ও নেতাকর্মীদের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
শনিবার (৩০ মে) সকালে দিনাজপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্ত হয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসভবনে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরেন। বাবাকে হারানোর শোকে তিনি সেখানে অঝোরে কাঁদতে থাকেন এবং স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং শেষবারের মতো পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ দিতে তাকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সে দবিরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
জানাজা শেষে সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, বাবাকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন। শেষ সময়ে তার পাশে থাকতে না পারার কষ্ট তার জীবনে গভীর দাগ কেটে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাবার অসমাপ্ত ইচ্ছা, চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাওয়া এবং পরে হজ পালন পূরণ করতে না পারার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, তার বাবা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৫ বছর এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি দোয়া কামনা করেন।
স্থানীয়রা জানান, দবিরুল ইসলাম ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের একজন প্রভাবশালী ও অভিভাবকসুলভ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার চেয়ারম্যান এবং সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি বিরল রাজনৈতিক রেকর্ড গড়েন।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুরুতে সিপিবির রাজনীতি করলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন দীর্ঘদিন।
আরবিএন