সারা বছর যানজট, নির্মাণকাজের ধুলা আর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে হাঁসফাঁস করা ঢাকার বাতাসে এখন কিছুটা স্বস্তির ছোঁয়া। ঈদুল আজহার ছুটি শেষেও রাজধানীজুড়ে মানুষের চলাচল কমে যাওয়া এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় ২০তম স্থানে থাকা ঢাকার স্কোর ৮০। বায়ুমানের এই স্কোর শহরটির জন্য মোটামুটি ভালো। ফলে আজ মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন রাজধানীবাসী। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমানের স্কোর কিছুটা বাড়তেও পারে কিংবা কমতেও পারে।
গত রোববার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১০৭। আগেরদিন ছিল ৮২ স্কোর।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে কঙ্গোর কিনসাসা। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ২০৩, যা খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়।
এদিকে, তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার স্কোর ১৭০। তারপরেই অবস্থান করা ভারতের দিল্লির স্কোর ১৫২। দুটি শহরের বায়ুমানের স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে ১১৫ স্কোর নিয়ে ভারতের কলকাতার অবস্থান নবম আর ৫৬ স্কোর নিয়ে দেশটির আরেকটি শহর মুম্বাইয়ের অবস্থান ৫৭তম। এখানে কলকাতার বায়ুমানের স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। তবে মুম্বাইয়ের বায়ুমানের স্কোর মোটামুটি ভালো।
১৪৫ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোরের অবস্থান চতুর্থ। আর ৮২ স্কোর নিয়ে ২১ তম অবস্থানের দেশটির আরেকটি শহর করাচি। লাহোরের বায়ুমানের স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হলেও করাচির বাতাস অনেকটা ভালোই বলা যায়।
আইকিউএয়ারের মান অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেয়া হয়।
১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
/কেআই