রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে দুই নারীকে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই রানা রায় আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে নিজেদের বাসার ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে লাগেজ, মোবাইল ফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় আসামিরা। ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানীকালে বিচারক আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই ও অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ছিনতাই হওয়া লাগেজ এখনো উদ্ধার হয়নি। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে আসামিরা দাবি করেন, লাগেজ তাদের সহযোগী আলমের কাছে রয়েছে।
এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন রিমান্ডের আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামি আরিফ পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন জুয়েল ওরফে সোর্স আরিফ এবং আনোয়ার হোসেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে দিবাগত রাত ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় দুই নারী নিজেদের বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিকশা থেকে নামার পর চাপাতি হাতে দুই ব্যক্তি তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাগেজ, ব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী দুই নারী ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে বাসার সামনে পৌঁছানোর পর এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
সময়ের আলো/টিএইচ