দামের বোঝায় জীবন ঝুঁকবে আরও

রফিক রাফি

জাতীয়

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার বাড়ল বিদ্যুতের দাম। পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির ফলে জুন থেকেই

2026-06-04T00:24:26+00:00
2026-06-04T00:24:26+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
দামের বোঝায় জীবন ঝুঁকবে আরও
রফিক রাফি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার বাড়ল বিদ্যুতের দাম। পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির ফলে জুন থেকেই বাড়তি বিল গুনতে হবে গ্রাহকদের। বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও সেবা খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারেও। ফলে মূল্যস্ফীতির নতুন ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একের পর এক জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের কাঁধে, যা আরও কঠিন করে তুলবে জীবনযাত্রার হিসাব। এমন বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতির চাপে আগে থেকেই হাঁসফাঁস করা মানুষের জন্য বিদ্যুতের নতুন দর যেন স্বস্তির আলো আরও ম্লান করে দিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল গত এপ্রিলে। সেই ধাক্কায় বেড়েছে গাড়ি ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ। এর মধ্যেই জুনে আবার বাড়ল অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম। এরপর বুধবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি সেক্টরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ ব্যক্তিজীবনে যে রকম দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে, তেমনি শিল্প কলকারখানায়, বাসাবাড়ি, কৃষি, গণপরিবহনসহ সব জায়গায় উৎপাদন খরচ বাড়বে। আর এগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়লে তার দায়ভার সবশেষ ব্যবহারকারী হিসেবে ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। ফলে সব ধরনের মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি নেতিবাচক পড়বে। যা মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করায় জনগণের মাঝে নেতিবাচক বার্তা গেল।

সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সামাল দিতে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের দর বাড়ার পেছনে রয়েছে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আর্থিক চাপ। বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এ ঘোষণা দেন।

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে তা ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়। এ ছাড়া বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে তা বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের হিসাবে, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

এর আগে গত মে মাসের শুরুতে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয় পিডিবি, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ, ডেসকো, ডিপিডিসি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওজোপাডিকো ও নেসকো। এসব প্রস্তাবের ওপর ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। অন্যদিকে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি ৩ পয়সা থেকে ২৯ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করে।

শতাংশে যা বাড়ল : নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী আবাসিক, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সেচ ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন সব শ্রেণির গ্রাহককেই আগের তুলনায় বেশি দাম গুনতে হবে। নতুন ট্যারিফে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকা ৭৪ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে বিভিন্ন শ্রেণিতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

নতুন দর অনুযায়ী আবাসিক প্রান্তিক গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৬৯ পয়সা বা ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, যা ৯২ পয়সা বা ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া ৭৬-২০০ ইউনিট ব্যবহারে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা ১ টাকা ৩ পয়সা বেশি। ২০১-৩০০ ইউনিটের জন্য নতুন দর ৯ টাকা ১০ পয়সা, যা ১ টাকা ৫১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০১-৪০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ৬২ পয়সা এবং ৪০১-৬০০ ইউনিটের জন্য ১৫ টাকা ১ পয়সা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী শ্রেণি অর্থাৎ ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিটের জন্য গুনতে হবে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের তুলনায় ২ টাকা ৭৪ পয়সা বেশি। কৃষি সেচে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৪ পয়সা। এ খাতে প্রতি ইউনিটে ৭৯ পয়সা বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র শিল্পের ফ্ল্যাট রেটে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম হয়েছে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা, যা ১ টাকা ৯৭ পয়সা বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও হাসপাতালের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দর ৯ টাকা ৫ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১ টাকা ৫০ পয়সা বেশি।

রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা। একইভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনের জন্য নতুন দর ১১ টাকা ৩৬ পয়সা, যা ১ টাকা ৭৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিস শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের মূল্য ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ শ্রেণিতে দাম বেড়েছে ২ টাকা ৩৫ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি।

শিল্প খাতেও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। ৩৩ কেভি শিল্প গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দর ১২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ১৩২-২৩০ কেভি শিল্প গ্রাহকদের জন্য ১২ টাকা ৬৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে।

ভোক্তাদের উদ্বেগ : বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা কবীর হোসেন বলেন, ‘সবকিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সেটি বুঝি, কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যয় বেড়ে থাকলে তার দায়ও কি সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে?’

ঢাকার ওয়ারীর গৃহিণী মায়মুনা খাতুন বলেন, জ্বালানি তেল আর গ্যাসের দাম বাড়ার পর সংসারের খরচও বেড়ে গেছে। এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ল, খরচ আরও বাড়বে। কিন্তু এই বাড়তি দাম আসবে কোথা থেকে আয় তো বাড়েনি? সংসার চালানোই তো কঠিন হয়ে যাবে।

খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়তে সর্বত্র। মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ভর্তুকির বোঝা কিছুটা কমলেও এর প্রধান ভার বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল ভর্তুকি চলছে। এই ভর্তুকির বোঝা যদি আরও বাড়তে থাকে, তবে পুরো পাওয়ার সেক্টর অচল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়বে, যা দেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বর্তমানের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাতের এই লোকসান কমিয়ে আনা বা দাম বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। তবে বারবার কেবল দাম বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে একটি নির্দিষ্ট সীমার পর অতিরিক্ত দাম পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি সিস্টেম এবং ম্যানেজমেন্টে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী, তাদের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করা প্রয়োজন ছিল, যা অন্তর্বর্তী সরকারও কার্যকরভাবে করতে পারেনি। পাওয়ার সেক্টরকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও এর পাশাপাশি পুরো খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু দাম বাড়িয়ে নয়, বরং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হলে স্বাভাবিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ ব্যক্তিজীবনে যে রকম দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে, তেমনি শিল্প-কলকারখানায়, বাসাবাড়ি, কৃষি, গণপরিবহনসহ সব জায়গায় উৎপাদন খরচ বাড়বে। আর এগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়লে তার দায়ভার সবশেষ ব্যবহারকারী হিসেবে ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। ফলে সব ধরনের মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক পড়বে। যা মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে।

তিনি বলেন, তবে বিএনপি সরকার সবেমাত্র ক্ষমতায় এলো। আর ক্ষমতায় আসার পরপরই বিদ্যুতে দামা বাড়ানো,  এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর মতো সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ ও শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত লোকজনের জন্য নেতিবাচক বার্তা প্রদান করা হলো। আর যে প্রক্রিয়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো, সেখানে ক্যাবসহ সব ধরনের লোকজন অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস, ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করার জন্য দাবি করা হলেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর খড়গ নামানো হলো, যা খুবই দুঃখজনক।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   বিদ্যুৎ  দাম  সরকার  অর্থনীতি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: